সাতক্ষীরার নারী ভাটা শ্রমিক যশোরে খুন
পিবিআইয়ের হাতে আটক স্বামীর আদালতে স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে ভাটা শ্রমিক ফাহিমা বেগম হত্যা মামলায় তার স্বামী জাহাঙ্গীর মোড়লকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুক্রবার স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করে জাহাঙ্গীর মোড়ল আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম শেখ কোতোয়ালি মডেল থানায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা মামলা করেছেন। আটক জাহাঙ্গীর মোড়ল সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সাতপাখিয়া গ্রামের দাউদ মোড়লের ছেলে। মামলার বিবরণে জানা গেছে, নিহত ফাহিমা বেগম সাতক্ষীরার তালা উপজেলার চরগ্রামের মৃত আনসার আলী শেখের মেয়ে। ২১ বছর আগে জাহাঙ্গীর মোড়লের সাথে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের মরিয়ম (১৮) ও মুশফিকা (১১) নামে দুইটি মেয়ের জন্ম হয়। অভাব অনাটনের সংসারে স্বামী-স্ত্রী দুইজনেই ইট ভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

সাতপাখিয়া গ্রামের ইসমাইল সরদারের সাথে তারা গত ১ ডিসেম্বর যশোরের নরেন্দ্রপুরের দফাদার ভাটায় শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে আসেন। বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ হওয়ায় এক সপ্তাহ পর তারা বাড়িতে ফিরে যায়। গত ১৫ ডিসেম্বর তারা ফের যশোরে কাজ করতে আসে। ওই দিন বিকেলে দুই মেয়ের সাথে ফাহিমার কথা হয়। কিন্তু পরে আর মোবাইলে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে শ্রমিক সরদার ইসমাইলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান তার বোন ফাহিমা ও ভগ্নিপতি জাহাঙ্গীর ভাটায় আসেনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নিয়ে তাদের কোন সন্ধান করতে না পেরে ১ জানুয়ারি তালা থানায় একটি জিডি করেন।

গত ১৩ জানুয়ারি সকালে যশোরের নরেন্দ্রপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে টয়লেটের সেফটি ট্যাংক থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম শেখ সংবাদ শুনে স্থানীয় এক ইউপি মেম্বরকে সাথে নিয়ে যশোরে আসেন এবং বোনের মরদেহ সনাক্ত করেন। তার ধারণা অজ্ঞাতনামা আসামি তার বোন ফাহিমাকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দ্যেশে ট্যাংকির ভিতরে লুকিয়ে রাখে। উদ্ধারের পর রাতেই পিবিআই ফাহিমার স্বামী জাহাঙ্গীরকে সাতক্ষীরার তালা এলাকা থেকে আটক করে। আটকের পরে প্রাথমিক ভাবে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে। সেকারণে শুক্রবার জাহাঙ্গীরকে যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এসময় বিচারক মাহাদী হাসানের এজলাসে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে জাহাঙ্গীর। এরপরে জাহাঙ্গীরকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

শেয়ার