মশিয়াহাটিতে পিঠা-পুলি বানানোর বর্ণিল উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক,মণিরামপুর॥ ইট দিয়ে তৈরী সারি সারি চুলা জ্বলছে। জ্বলন্ত চুলার ওপর হাড়ি-কড়াই বসিয়ে গরম তেলে কেউ পাকান পিঠা, কেউ বানাচ্ছে ভাবা-কাচি পোড়া ( চিতই পিঠা), কলাসহ বিচিত্র ধরনের পিঠা বানাতে ব্যস্ত সময় করছেন নারীরা। কয়েকশ’ নারীর অংশগ্রহণে বানানো এ পিঠা আগন্তুকদের দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার ছিল পৌষ মাসের শেষ দিন। এ দিনটি সানতন ধর্মাবলম্বীরা পৌষ সংক্রান্তি বাস্তু পূজা করে থাকেন। এদিন সকাল ১১টা হতে যশোরের মণিরামপুরের মশিয়াহিাট এলাকার আলীপুর গ্রামের বটতলায় পিঠা তেরী শুরু করেন এলাকার নারীরা। যা চলে রাতভর। পিঠা তেরী হচ্ছে আবার সেটি প্রসাদ হিসেবে খাওয়া হচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে এ পিঠা-পুলি উৎসব মেলায় রূপ নেয়। গ্রামের কমপক্ষে দুশ’ নারী এ পিঠা তৈরীতে অংশ নিয়েছেন। পিঠা বানাতে বেশ আগে থেকেই প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড়ে ব্যস্ত থাকেন নারীরা। শুধু এলাকার লোকজনই না, আশেপাশের আত্মীয়-স্বজন এ উৎসবে যোগ দেন। প্রতিটি বাড়িতে চলে এ উৎসব।
পিঠা তেরীতে ব্যস্ত প্রমিলা, সুনিতা, অনিমা, পারুল, ময়নাসহ একাধিক নারী জানান, পৌষ সংক্রান্তি এ বাস্তু পূজা উৎসবের আমেজে আয়োজন করা হয়। গ্রামের নারীরা একত্রিত হয়ে চূলা বানিয়ে এক জায়গায় পাশাপাশি বসে বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরী করা হয়। এ পিঠা প্রসাদ হিসেবে সবাইকে বিতরণ করা হয়। এলাকার সকলেই আনন্দ-উৎসবের মধ্যে দিয়ে এ দিনটি উপভোগ করে থাকেন।

স্থানীয় লখাইডাঙ্গা গ্রামের স্কুল শিক্ষক উৎপল বিশ্বাস বলেন, এ উৎসব শুধু এখানকার বটতলায় হচ্ছে না, মশিয়াহাটি এলাকার প্রতিটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে পিঠা তৈরী করা হচ্ছে। যা প্রতিবেশিসহ আত্মীয়-স্বজনরা আনন্দ-উৎসবের মধ্যে হয়ে থাকেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র রায় বলেন, পৌষ সংক্রান্তি এ বাস্তু পূজা ভবদহ বিল পাড়ের দুর্গত মানুষেরা উৎসবের আমেজে করে থাকেন। যা তাদের দুঃখ-দুর্দশা ক্ষণিকের জন্য হলেও ভুলিয়ে দেয়।

শেয়ার