ফুটবলের সোনালী অতীতকে ফিরিয়ে আনলেন আলফাজ, নকিব, আরমান, গাউস, কাঞ্চনরা

 খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হওয়ায় তরুণরা সঠিক পথের দিশা পাচ্ছে : এমপি শাহীন চাকলাদার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ হারিয়ে যাওয়া ফুটবলের জৌলুস ফিরিয়ে আনতে যশোরে মাঠে নেমেছিলেন সোনালী সময়ের মাঠ কাঁপানো ফুটবলার আলফাজ, নকিব, আরমান, গাউস, কাঞ্চনরা। শুক্রবার বিকেলে যশোরের সোনালী অতীত ক্লাবের মুখোমুখি হয়েছিলেন তারা। নব্বইয়ের দশকে জাতীয় দলের ফুটবলারদের নিয়ে গঠিত ‘টিম ৯০ এফসি ঢাকা’র হয়ে মাঠ মাতালেন এই কৃতী ফুটবলাররা।

শুক্রবার বিকেলে যশোরের হামিদপুরে শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমি মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ‘টিম ৯০ এফসি ঢাকা’ ও সোনালী অতীত ক্লাব যশোর। এই ম্যাচকে ঘিরে একাডেমি প্রাঙ্গন সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়দের মিলনমেলায় পরিণত হয়। উৎসুক দর্শকরাও ভিড় করেন মাঠ কাঁপানো আলফাজ, নকিব, আরমান, গাউস, কাঞ্চনদের পায়ের জাদু এক পলক দেখতে। বেলা সাড়ে তিনটার সময় শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমি মাঠে সোনালী অতীত ক্লাব, যশোর ও টিম ৯০ এফসি ঢাকার এই প্রীতি ম্যাচের বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। সোনালী অতীত ক্লাব, যশোরের সভাপতি এবিএম আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কোষাধ্যক্ষ হালিম রেজা। আক্রমণ প্রতিআক্রমণে জমজমাট ম্যাচটি উপভোগ করেন কয়েক হাজার দর্শক। খেলার ৩৫ মিনিটের সময় ‘টিম ৯০ এফসি ঢাকা’র বিদ্যুৎ ফ্রি-কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। নির্ধারিত সময়ে আর কোনো দল গোলমুখ খুলতে না পারায় ‘টিম ৯০ এফসি ঢাকা’ জয়লাভ করে।
প্রীতিম্যাচে অংশ নেয়া খ্যাতিমান ফুটবলার আলফাজ আহমেদ ও ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব বলেন, ফুটবলের সোনালী ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে আনতে এবং তাদের ফুটবলে উদ্বুদ্ধ করতে এমন আয়োজনে তারা অংশ নিয়েছেন।

সোনালী অতীত ক্লাব যশোরের কোষাধ্যক্ষ হালিম রেজা জানান, দিনে দিনে ফুটবল তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। তাই নতুন প্রজন্মকে ফুটবলে উদ্বুদ্ধ করতে এবং ফুটবলকে তৃণমূলে আরও বিস্তৃত করতে তারা এই আয়োজন করেছেন।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই খেলাধুলার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। গ্রাম পর্যায় থেকে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে নতুন নতুন খেলোয়াড় বের হচ্ছে। যার ফলে ফুটবলসহ সকল খেলায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে এবং আরো হবে। আজকের ফুটবল টুর্নামেন্টসমূহ গ্রাম-গঞ্জে সর্বত্রই একটা ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি করবে। খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে আমাদের সন্তানরা বিপদগামী না হয়ে সঠিক পথের দিশা পাচ্ছে। এজন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান সরকার শেখ হাসিনা প্রশংসার দাবিদার।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি এজেডএম সালেক ও মির্জা আখিরুজ্জামান সান্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদ আহমেদ, আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল হাসান হ্যাপী, যশোর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মাহমুদ হাসান বিপু, যুব লীগ নেতা তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু, সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বিপুল, ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাজান কবির শিপলু ও সাবেক সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী প্রমুখ।

দুই দলে খেলেছেন যারা :-
টিম ৯০ এফসি ঢাকা : আতাউর রহমান আতা, ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব, আলফাজ, আরমান, জাকির-১, কাঞ্চন, মনি, জালাল, স্বপন, ডন, বিদ্যুৎ, শুভ্র, নজরুল, শামীম, লিটন, রেন্টু, খোকন, তারেক, মিলন, সুজন-১, মিঠু, টিটো, ওয়ালিদ, বেলাল, বাপ্পী, হোসেন, মানিক, রোমান, আওলাদ, সালাউদ্দিন, সুজন-২, জাহাঙ্গীর, জাকির-২।

সোনালী অতীত ক্লাব, যশোর : সাথী, হালিম, জয়নাল, কাজী জামাল, লিটু, টনি, নিশাত, নিপ্পন, নিপু, মকবুল, মুন্না, পিরু, মোহাম্মদ উল্লাহ, এনাম বাবু, বর্ডার, ওয়াসিম, জামাল ছোট, লাকী, সুমন, ইমন, রতন, রাজীব, নজু, আনিস, কুতুব, বিশ্ব, জয় সাহা, শান্ত, জামাল, জামাল-৩।
কোচ : হারান চন্দ্র দে, ম্যানেজার : কবিরুল হক কচি।

শেয়ার