অভয়নগরে ফেরিওয়ালা বাবার মেধাবী মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি॥ ‘অসহায় মানুষের সেবা করার প্রত্যয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। সেই স্বপ্ন এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। টাকার অভাবে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির আবেদন করতে পারিনি। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখে আমি ভুল করেছি।’ অশ্রুভেজা চোখে কথাগুলো বলছিলেন এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী রুকসানা খাতুন।

রুকসানা খাতুনের বাবা আনিছ শেখ একজন ফেরিওয়ালা। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শোনপাপড়ি বিক্রি করেন। দিনের উপার্জনে স্ত্রী, একমাত্র মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে কোন মতে সংসার চলে তাদের। যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভাঙ্গাগেট এলাকায় একটি ভাঙ্গা ঘর ছাড়া রুকসানাদের নেই কোন সম্পত্তি। সরেজমিনে শুক্রবার ১৪ জানুয়ারি সকালে ভাঙ্গাগেট এলাকায় রুকসানাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, পুরাতন টিন দিয়ে তৈরি একটি ভাঙ্গা ঘরে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাবা- মা বসে রয়েছেন। ঘরের সামনে রুকসানার ছোট ভাই খেলা করছে।
এ সময় রুকসানার বাবা আনিছ শেখ বলেন, ‘আমার মেয়ের ইচ্ছা ভবিষ্যতে সে একজন ডাক্তার হবে। অসুস্থ গরীব-অসহায় মানুষের সেবা করবে। অনেক কষ্টে এসএসসি পর্যন্ত পড়াতে পেরেছি। এখন কলেজে ভর্তির টাকা জোগাড় করতে পারছি না।’ রুকসানার মা রেশমা বেগম বলেন, ‘মেয়েটা আমার খেয়ে না খেয়ে স্কুলে গিয়েছে। একা একা পড়ালেখা করে পাশ করেছে। এখন কলেজে ভর্তি করার টাকা পাবো কোথায় ? যদি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আমার মেয়ের পড়ালেখার দায়িত্ব নিতেন তাহলে তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতো।’

রুকসানার বিদ্যাপীঠ পূর্বাচল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধনঞ্জয় কুমার বিশ্বাস জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ এসএসসি পর্যন্ত রুকসানার পড়ালেখা ফ্রি করে দিয়েছিল। এসএসসি পরীক্ষার জন্য তাঁর অভিভাবকের নিকট থেকে শুধুমাত্র বোর্ড ফি নেওয়া হয়েছিল। তবে অর্থের অভাবে মেধাবী মেয়েটার ভবিষ্যত এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সমাজের শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে রুকসানার উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হতো। তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতো। যেকোন সহযোগিতার জন্য তিনি ০১৯১৩-৫১৪৫১৬ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন।

শেয়ার