হাতুড়ে ডাক্তার শশাঙ্ক’র কাছে পাইলস্ অপারেশন!

 গুরুতর অবস্থায় রোগীকে ক্লিনিকে ভর্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামে এস কে বিশ্বাস ওরফে শশাঙ্ক নামে এক ‘ভুয়া ডাক্তারের’ বিরুদ্ধে রোগীদের অপারেশনের মাধ্যমে অপচিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছুরি, কাঁচি, পিলাচ আর কাপড় সেলাই করা সুই সুতা দিয়ে অপারেশন করে চলেছেন। তার কাছে অপারেশনের কারণে অনেকে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ভুয়া চিকিৎসক শশাঙ্ক উপজেলার রাজাপুর গ্রামের জতিন গুসাইয়ের ছেলে। শশাঙ্কের এমন অপারেশের ফাঁদে পড়ে রাজাপুর গ্রামের সোহরাব মোল্যার পুত্র আক্তারুজ্জামান ওরফে আক্তার এখন হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

ভুক্তভোগী আক্তার জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাইলস্ রোগে ভুগছিলেন। একদিন নিজ গ্রামের শশাঙ্ক ডাক্তার এসে তাকে বলেন, ‘তুমি হাসপাতালে অপারেশন করলে তোমার ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হবে; আমি অপারেশন করে দিবো-তুমি আমাকে হাজার পাঁচেক টাকা দিও’ এমন কথায় আশ্বস্ত হয়ে আক্তার ‘ভুয়া ডাক্তার’ শশাঙ্ককে দিয়ে গত (৭ জানুয়ারি) শুক্রবারে নিজ বাড়িতে পাইলস্ অপারেশন করে।
আক্তারের অভিযোগ, শশাঙ্ক তার কাছে থাকা ছুরি, কাঁচি, পিলাচ, সুই সুতা টেনে বার করে অপারেশন করেন। এরপর শশাঙ্ক টাকা নিয়ে চলে যাবার আধা ঘণ্টার মাথায় তার মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এমন অবস্থা দেখে বাড়ির লোকজন আক্তারকে নিয়ে যশোর নোভা মেডিকেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করেন। বর্তমানে আক্তার হোসেন নোভা মেডিকেল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ৬ তালার ১০৬ নং রুমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শশাঙ্কের এক প্রতিবেশী সাইদুর বলেন, শশাঙ্ক দীর্ঘ দিন ভারতে থাকতেন। বাড়িতে এসে দাইতলা বাজারে একটি ওষুধের দোকান করে ডাক্তারি শুরু করেন। শশাঙ্ক ফোড়া কাটা, খাতনা দেওয়া, আচিল কাটাসহ ছোট খাটো অনেক অপারেশন খুর, কাইচি দিয়েই করে থাকেন।

অভিযুক্ত শশাঙ্কের বাবা জতিন গুসাই বলেন, আমার ছেলে দুই-তিন বছর ডাক্তারি পড়েছে শুনেছি। কিন্তু কোন কলেজে পড়েছে তা জানি না। যশোরের হামিদপুর আলহেরা ডিগ্রি কলেজ থেকে বিএ পাশ করে সে ভারতে চলে যায়।

অভিযোগের ব্যাপারে শশাঙ্ক ডাক্তারকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি সর্বশেষ রিসিভ না করে ফোন বন্ধ করে রাখেন। এদিকে ঘটনার পরে শশাঙ্ক বাড়ি ছাড়া অর্থাৎ পলাতক রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে যশোরের সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, আমাদের কাছে এখনো এ ধরনের কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব। যশোরে কোন ভুয়া চিকিৎসকের ঠাই হবে না।

শেয়ার