প্রথম দিন ‘উপেক্ষিতই’ রইল বিধি-নিষেধ

সমাজের কথা ডেস্ক॥ করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে সরকারের দেওয়া ১১ দফা নির্দেশনা কার্যকরের প্রথম দিনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ‘উপেক্ষিত’ দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার থেকে এসব বিধি-নিষেধ মেনে চলার কথা থাকলেও ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেকের মুখেই মাস্ক ওঠেনি।

নির্দেশনা অনুযায়ী অফিস-আদালতে এবং ঘরের বাইরে সবার মাস্ক পরার কথা। নিয়ম না মানলে শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল সরকারের তরফ থেকে। তার বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে অনেককে।

ট্রেন ও বাসে অর্ধেক যাত্রী বহনের নির্দেশনার বাস্তবায়ন শনিবার পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল আগেই। বিধিনিষেধের প্রথম দিন রেস্তোরাঁ, বাজার কিংবা জনসমামগমস্থলে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা গেছে কমই।
রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মেলায় এসেছেন গৃহিনী হোসনে আরা খানম। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বললেন, ভিড় এড়াতে সকাল সকাল মেলায় এসেছেন।

“সরকার বিধি-নিষেধ দিয়েছে জানি। কিন্তু কিছু জিনিস কেনার প্রয়োজন ছিল, এজন্য মেলায় এসেছি। আমি আর মেয়ে কিন্তু মাস্ক খুলি নাই একবারও। তবে অনেকের মুখেই দেখি মাস্ক নাই।”

কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বাণিজ্য মেলা এবং গাউসিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বিআরটিসির একটি আর্টিকুলেটেড বাসে উঠে দেখা যায়, যাত্রীদের বেশিরভাগই মাস্ক পরেছেন। তবে কেউ কেউ মাস্ক খুলে বাদাম, চানাচুর খাচ্ছেন।

বাসের চালক এবং হেলপারদের টিকা সনদ থাকা বাধ্যতামূলক হলেও এ বাসের হেলপার জয়নাল আবেদীন জানান, তিনি এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের টিকাই নেননি।

“আমি টিকার জন্য কাল আবেদন করছি। মুগদা হাসপাতাল থেকে টিকা নেব।”

রাজধানীর কাকলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বেশিরভাগ পরিবহন শ্রমিকের মুখেই মাস্ক নেই। যাদের মাস্ক আছে তারাও থুতনিতে নামিয়ে রেখেছেন।

গুলিস্তান থেকে শ্রীপুরের বরমী রুটের প্রভাতী বনশ্রী পরিবহনের একটি বাসে যাত্রীদের অনেকের মুখেই কোনো মাস্ক ছিল না। চালক মাস্ক পরে থাকলেও মাস্ক নেই চালকের সহকারী আবদুল বাতেনের মুখে।

জানতে চাইলে আবদুল বাতেন বললেন, “মাস্ক পইরাই থাকি সবসময়। কিন্তু বিড়ি-সিগারেট খাওনের লাইগা মাস্ক খুলতে হয়।”

শেয়ার