আশাশুনিতে স্বামীর হাত থেকে রেহাই পেতে চলন্ত গাড়ি থেকে গৃহবধূর ঝাঁপ

আশাশুনি প্রতিনিধি ॥ সাতক্ষীরা আশাশুনিতে স্বামীর মোটরসাইকেল থেকে সন্তান নিয়ে ঝাঁপ দিয়েছে এক গৃহবধূ। স্বামীর দুরভিসন্ধির আশঙ্কায় তিনি ও তার সন্তানের প্রাণ রক্ষা করতে চলন্ত গাড়ী থেকে স্ত্রী কেয়া সুলতানা ঝাঁপ দেন। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর প্রতিকার চেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

জানা গেছে, আশাশুনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড় দুর্গাপুর গ্রামের সবুর গাজীর ছেলে সবুজ গাজী ও কুল্যা ইউনিয়নে কচুয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে কেয়া সুলতানার সাথে তিন বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পার হতে না হতেই যৌতুকের দাবিতে কেয়া সুলতানার উপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। উপায়ান্ত না পেয়ে অস্বচ্ছল পিতার বাড়ি থেকে ঘর সংসার করার জন্য নগদ ৫০হাজার টাকা পাষন্ড স্বামীর হাতে তুলে দেন। টাকা পেয়ে সবুজ গাজী তার স্ত্রীকে নিজের বাড়ি রেখে কাজ করতে চলে যায়। গত ৮জানুয়ারি বাড়ি ফিরে এসে কেয়া সুলতানার খালার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার নাম করে চলে আসে। সর্বশেষ গত ১১ জানুয়ারি তার শিশু সন্তান ও স্ত্রীকে পরপারে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য মোটর সাইকেল যোগে চিকিৎসার নাম করে বাড়ি থেকে রওনা হয়। স্বামীর দুরভিসন্ধি দেখে চলন্ত মোটর সাইকেল গতিরোধ হলে সেই সুযোগে শিশু সন্তানটি নিয়ে লাফিয়ে পড়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করে। সেখানে যেয়েও সবুজ গাজী তার স্ত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে আসার চেষ্টা চালায়। কিন্তু স্থানীয় গ্রামবাসী ও সাবেক মেম্বর কাজলের সহযোগিতায় তা সম্ভব হয়নি।
পরে তার স্বজনদের খবর দিয়ে গৃহবধূ কেয়া সুলতানাকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে সবুজ গাজীর কথা হলে তিনি বলেন, আমার স্ত্রী আমার সাথে ঘর সংসার করবে না বলে বহুদিন তালবাহানা করে আসছে। চলন্ত গাড়ি থেকে সে ঝাঁপ দেয়নি স্বেচ্ছায় নেমে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট বলে তিনি দাবি করেন।

শেয়ার