রহমতগঞ্জকে হারিয়ে ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন আবাহনী

সমাজের কথা ডেস্ক ॥ ফেডারেশন কাপের শিরোপা জিতলো আবাহনী লিমিটেড। রবিবার (৯ জানুয়ারি) কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে দানিয়েল কলিনদ্রেস-রাকিব হোসেনের লক্ষ্যভেদে রহমতগঞ্জকে ২-১ গোলে হারিয়ে তিন বছর পর ১২তম ট্রফি ঘরে তুলেছে আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। ম্যাচের শুরুর দিকে আবাহনীকে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল রহমতগঞ্জ। কিন্তু অভিজ্ঞতায় অনেক এগিয়ে থাকা মারিও লেমসের শিষ্যরা দুই অর্ধে দুই গোলের সুবাদে শেষ হাসি হেসেছে। ফাইনালে আবাহনীর একাদশে দুটি পরিবর্তন আনা হয়। চোটের কারণে ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরার জায়গায় খেলেছেন মনির হোসেন। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার রাফায়েল অগাস্তো ম্যাচের আগে অনুশীলন করলেও ব্যথা অনুভব করায় খেলতেই পারেননি। অবশ্য শুরু থেকে ছিলেন জুয়েল রানা। আরেক ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার দোরিয়েন্তন তো চোট থেকে উঠতেই পারছেন না। দুই বিদেশি নিয়ে ৪-৩-৩ ছকে খেলেছে আবাহনী। তবে ফাইনালে রাফায়েলের অভাবে কোস্টারিকার ফরোয়ার্ড কলিনদ্রেসকে মাঠ জুড়ে খেলতে হয়েছে। সাধারণত লেফট উইংয়ে খেললেও ফাইনালে কখনও ‘নাম্বার নাইন’, আবার কখনও নিচে নেমে এসে নিজেই আক্রমণের উৎস হয়ে উঠেছেন তিনি। তাকে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করেছেন জুয়েল রানা-রাকিব হোসেন-নাবীব নেওয়াজ জীবন। রহমতগঞ্জ চার বিদেশি নিয়ে উজ্জীবিত ফুটবল নৈপুণ্য দেখানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। তবে নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার সানডে চিজোবা ও ঘানার স্ট্রাইকার ফিলিপ আযাহ সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি।
প্রথমার্ধে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ নির্ভর খেলা হয়েছে। শুরুর ১৫ মিনিট আধিপত্য করেছে পুরান ঢাকার দলটি। ম্যাচের ১২ মিনিটে প্রথম আক্রমণে ওঠে রহমতগঞ্জ। খন্দকার আশরাফুল ইসলামের বাড়ানো পাস নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সানডেকে আটকাতে গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেল পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। একটু তড়িঘড়ি নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকারের নেওয়া শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। এর দুই মিনিট পর ২০১৯-২০ মৌসুমের রানার্সআপদের সামনে আবারও সুযোগ আসে। নিজেদের অর্ধ থেকে সানডের রক্ষণচেরা পাস অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ফিলিপ আযাহ। তার পেছনে ছুটছিলেন আবাহনীর তিন ডিফেন্ডার। ডান দিক থেকে ফিলিপের কোনাকুনি শট পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে আটকান সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে আবাহনীর জয়ের নায়ক শহিদুল। একটু গুছিয়ে নিয়ে ২৮ মিনিটে আবাহনী প্রথম আক্রমণ যায়। বক্সের ভেতর থেকে জুয়েল রানার হেড পাস খুঁজে নেয় ছোট ডি-বক্সের ডান দিকে অরক্ষিত থাকা নাবীব নেওয়াজ জীবনকে। কিন্তু গোলকিপার রাকিবুল হাসান তুষারকে একা পেয়েও তিনি ক্রসবারের ওপর উড়িয়ে মারেন বল। সুবর্ণ সুযোগ নষ্টের কারণে দলের বাকিরাও হতাশায় টার্ফে মাথা ঠুকতে থাকে। ৩৩ মিনিটে কলিনদ্রেসের দূরপাল্লার ফ্রি-কিক গোলকিপার পাঞ্চ করে ফেরান। এর তিন মিনিট পর রহমতগঞ্জের সামনে আবারও সুযোগ আসে। তবে মাহমুদুল হাসান কিরণের কর্নারে এনামুল ইসলামের ব্যাক হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়।
বিরতির আগে আবাহনী ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ৪৪ মিনিটে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে রাকিব হোসেনের জোরালো শট রাকিবুল হাসান প্রতিহত করেন। যোগ করা সময়ে আবাহনী সমর্থকদের মুখে হাসি।রাকিবের পাসে কলিনদ্রেস বক্সের বাইরে থেকে একটু জায়গা করে নিয়ে বা পায়ের জোরালো নিচু শটে জাল কাঁপান। বিরতির পর আবাহনীর খেলায় গতি বাড়ে। কলিনদ্রেস দুটি সুযোগ নষ্ট করেন। ৪৯ মিনিটে বক্সে ঢুকে কলিনদ্রেসের শট দূরের পোস্ট দিয়ে যায়। দুই মিনিট পর কলিনদ্রেসের বা পায়ের জোরালো শট ক্রস বারের ওপর দিয়ে গেলে ব্যবধান বাড়ানো হয়নি। তবে ৬৪ মিনিটে আবাহনী ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পায়ের কারিকুরিতে এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বল নিয়ে দূরপাল্লার শট নেন নুরুল নাইম ফয়সাল। রাকিবুল ফিস্ট করে ফেরানোর পর তা বক্সেই পেয়ে যান রাকিব হোসেন। দুই টোকায় একটু এগিয়ে নিয়ে নিঁখুত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই ফরোয়ার্ড।
৭০ মিনিটে রহমতগঞ্জ স্কোরলাইন ২-১ করে। শাহরিয়ার বাপ্পীর থ্রু থেকে ফিলিপি আযাহ বক্সে ঢুকে বদলি ডিফেন্ডার মামুন মিয়াকে কাটানোর পর ঝাঁপিয়ে পড়া গোলকিপার শহিদুলকে বাধা পেরিয়ে কোনাকোনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন। বাকি সময় চেষ্টা করেও কোনও দল গোলের দেখা পায়নি। স্বাধীনতা কাপের ফেডারেশন কাপের ট্রফি জিতে নিয়েছে আবাহনী। তাই সমর্থকদের উল্লাস ছিল বাধভাঙা। এই জয়ে আগামী এএফসি কাপে প্লে-অফ খেলাও নিশ্চিত হলো আকাশি-নীল জার্সিধারিদের।

শেয়ার