ভবদহের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান দাবি

যশোর কালেক্টরেট চত্বরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ‘যশোরের দুঃখ’ ভবদহ পাড়ের মানুষ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। রোববার দুপুরে যশোর কালেক্টরেট চত্বরে এ অবস্থান কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার অসংখ্য নারী-পুরুষ অংশ নেন। এসময় টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়নের এক দফা দাবিতে তারা শ্লোগান, বক্তৃতা করেন। একইসাথে তাদের দুঃখ দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে বহন করেন ব্যানার, প্লাকার্ডও। রোববার প্রথম দিন বেলা ১১টা থেকে শুরু করা হয়েছে লাগাতার এ কর্মসূচি। আর সোমবার থেকে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ভবদহবাসীকে ডুবিয়ে মারার একের পর এক ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। আমরা দাবি করছি আমডাঙ্গা খাল প্রশস্থ করে খনন, বিল কপালিয়ায় টিআরএম এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিলে টিআরএম চালু করে নদীর নাব্যতা রক্ষা ও জলাবদ্ধতার অবসান ঘটাতে হবে। একইসাথে উজানে পদ্ম-মাথাভাঙ্গা-ভৈরবের নদী সংযোগের সাথে মুক্তেশ্বরী নদীকে যুক্ত করে প্রবাহমান করতে হাবে। তা হলেই কেবল সমস্যার সমাধান হবে। ইকবাল কবির জাহিদ আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রভাবশালী রাজনৈতিকদের ‘টাকা কামানোর মেশিন’ করা হয়েছে ভবদহকে। তারা ২০১৩ সাল থেকে প্রতিশ্রুতি ও প্রতিশ্রুতির ভঙ্গের মাধ্যমে জনগণের সাথে অব্যাহত প্রতারণা করা হচ্ছে। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতারা বলেন, এখন চলছে বোরো মৌসুম। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে ভবদহ এলাকার গ্রামে গ্রামে এখনো পানি জমে আছে। অনেকের উঠানে এখনো কোমর পানি। ফলে শত শত একর জমি এবার আবাদ না হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। ফলে কৃষির উপর নির্ভরশীল এই জনপদের মানুষ আছেন মহাসংকটে।
ভুক্তভোগীদের দাবি ভবদহ অঞ্চলকে মহাবিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তাবিত ‘ভবদহ ও তৎসংলগ্ন বিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ’ প্রকল্প বাতিল করতে হবে। একই সাথে মাঘী পূর্ণিমার আগে বিল কপালিয়া টিআরএম চালু করতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ভবদহ পানি নিষ্কাশনের কমিটির উপদেষ্টা অ্যাড. আবুল হোসেন, নাজিমউদ্দিন, তসলিম উর রহমান, হাচিনুর রহমান। আরোও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আফসার আলী, অধ্যাপক আমিরুল আলম খান, আজিজুল হক মনি, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাহমুদ হাসান বুলু, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারাজী সাঈদ আহমেদ বুলবুল, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক দীপংকর দাস রতন প্রমুখ । এর আগে গত ২ জানুয়ারি এই সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পাঠানো হয়। ওই দিনই দাবি মানা না হলে লাগাতার এই অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো।

শেয়ার