ম্যারাথন শেষে থেমে গেল জীবনের দৌড়

সমাজের কথা ডেস্ক ॥ পটুয়াখালী জেলার হয়ে হাফ ম্যারাথনে অংশ নিতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন গহর জামিল হোসেন, ২১ দশমিক ১ কিলোমিটার দৌড় শেষে দুহাত তুলে জানিয়েছিলেন উচ্ছ্বাস, সেখানেই হল তার জীবনের শেষ।

পুলিশ ও আয়োজনকরা জানান, ফিনিশিং লাইনে পৌঁছানোর পরপরই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জামিল। দ্রুত হাসপাতালে নিয়েও তাকে বাঁচানো যায়নি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের মেরিন ড্রাইভে এই এ হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ‘টিম চট্টগ্রাম’ নামের একটি সংগঠন। সৈকত থেকে হালিশহর বিচ পর্যন্ত ১০ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার গিয়ে ইউ টার্ন নিয়ে পতেঙ্গা সৈকতে এসে প্রতিযোগিতা শেষ হয়।

গহর জামিল হোসেন দৌড়বিদদের কাছে পরিচিত ছিলেন ‘টুকু জামিল’ নামে। পটুয়াখালী সদরে জন্ম নেওয়া ৪৫ বছর বয়সী এ দৌড়বিদ থাকতেন ঢাকার মিরপুরের পশ্চিম কাজীপাড়ায়, চাকরি করতেন একটি বেসরকারি কোম্পানিতে।

প্রতিযোগিতা আয়োজক সংগঠনের সদস্য মো. আরমান বলেন, “জামিল টুকু নিজ জেলা পটুয়াখালীর হয়ে হাফ ম্যারাথনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনিসহ সেখানকার আরও ছয় থেকে সাত জন মিলে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।”

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দৌড়বিদ সাজেদুর রহমান সেলিম খুব কাছ থেকে টুকু জামিলের শেষ সময়টা দেখেছেন। তিনি বলেন, “জামিল ২১ দশমিক ১ কিলোমিটার দৌড় শেষ করে ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করে জয় সূচক চিহ্ন দেখান। তারপর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান, প্রতিযোগীদের জন্য রাখা অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।” চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর জামিলকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান পতেঙ্গা থানার ওসি কবির হোসেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ২১ দশমিক ১ এবং ১০ কিলোমিটার- দুই ক্যাটাগরিতে এ হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ‘টিম চট্টগ্রাম’। বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন বয়সী অন্তত ৭০০ দৌড়বিদ তাতে অংশ নেন। “জামিল দৌড় শেষ করেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রত তাকে নেভি হাসপাতাল ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে যান আয়োজকরা। কিন্তু বাঁচানো যায়নি।”

 

 

শেয়ার