যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ছাত্রী সেবিকাদের ঘাড়ে দায়িত্বের বোঝা !

এ্যান্টনি দাস অপু
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ছাত্রী সেবিকাদের উপর যেন দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে ও দিয়েছেন সিনিয়র স্টাফ নার্সরা। হাসপাতালের ১৪ টি ওয়ার্ডে রোগীর বিপরীতে ২৯০ জন সেবিকা থাকলেও তারা কাজ করিয়ে নেন ছাত্রী সেবিকা ও আয়া দিয়ে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ দায়িত্বে থাকা সেবিকারা কেবল রোগীর ওষুধ দিয়েই দায় সারেন। রোগীর রক্তচাপ পরীক্ষা, তাপমাত্রা পরীক্ষা, ডাক্তারের দেওয়া পরীক্ষাগুলো ঠিকঠাক করেছে কি না, নতুন রোগী আসলে সে রোগীর জন্য বেড তৈরি করে দেওয়া এ বিষয়ে দেখভাল করার দায়িত্ব থাকলেও শুধুমাত্র রোগীর ওষুধ দিয়ে বসে থাকেন সেবিকারা।

সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্সদের দায়িত্ব যেখানে নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে রোগীকে সেবা দেওয়ার কথা সেখানে কেবল ওষুধ বুঝিয়ে দেওয়ার সময়টাতে তারা সময় দিচ্ছেন। বাকি সময় ওয়ার্ডে খাতা লিখে বা নিজেদের স্বজনদের বহিঃবিভাগে চিকিৎসক দেখানো, কাজের নামে অন্য ওয়ার্ডে গিয়ে বসে গল্প করেন তারা। আর নতুন রোগীর ওষুধ লিখে দেওয়া, ইনজেকশন পুষ করা, সেলাইনের গতিবেগ চেক করার কাজ করছেন প্রশিক্ষণ নিতে আসা ছাত্রী সেবিকারা। এতে সঠিক চিকিৎসাসেবা নিয়ে নানা সংশয়ে থাকেন রোগীর স্বজনরা। ছাত্রী সেবিকারা ইনজেকশন ও সেলাইন প্রদানের জন্য রোগীদের সঠিকভাবে সূচ ফুঁটাতে পারেন না। তাদের এমন কর্মকাণ্ডের ফলে বিভিন্ন ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স ও প্রশিক্ষণার্থী সেবিকাদের সাথে রোগীর স্বজনদের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ছাত্রী সেবিকাদের আচার-আচরণ নিয়েও অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা।
হাসপাতালের মডেল ওয়ার্ড থেকে শনিবার চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফেরেন লাবুয়াল হক নামে এক রোগী। তিনি অভিযোগ করেন, গত ৪/৫দিন ধরে হাসপাতালে দেখলাম চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার পরে ছাত্রী সেবিকারা রোগীদের ওষুধ লিখে দেওয়া, ওষুধপত্র দেওয়ার কাজ করছেন। আর সিনিয়র স্টাফ নার্স টেবিলে বসে খাতা লিখে ও সেবিকাকক্ষে অনলাইনে ডাটা এন্ট্রি করেই সময় পার করছেন। ওয়ার্ডে চিকিৎসক রাউন্ড দিয়ে যাওয়ার পরে কোনো প্রয়োজনে সেবিকাদের ডাকলেও অনেক সময় পাওয়া যায় না।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান জানান, কাজ করতে গেলে কিছু সমস্যা দেখা যায়। সেবিকারা কাজ করেন। তারাই হাসপাতালে সকল রোগীর সেবা দিয়ে থাকেন। প্রয়োজনে চিকিৎসকদের ডাকেন তারা। তারপরও ২/১ জন সেবিকাদের কারণে এমন সমস্যা দেখা যায়। তবে এ বিষয়ে নজরদারি করবেন।

শেয়ার