ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে যশোরে বৃষ্টি অব্যাহত ॥ ক্ষতিগ্রস্ত ধান ও সবজিক্ষেত বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে যশোরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। রোববার দিনভর বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট কাাদা পানিতে একাকার হয়েছে। এদিন যশোরে দেশের সর্বোচ্চ ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। টানা দুদিন যশোরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এতে করে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষজন। এদিকে, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে কৃষকের পাকা আমন ধানের ক্ষতি হয়ে গেছে। অধিকাংশ কৃষকের ধান বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে। বৃষ্টি যদি দীর্ঘ হয় তাহলে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

যশোর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস সূত্র মতে, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ’র প্রভাবে গতকাল সারা দিন বৃষ্টি হয়েছে। আজও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হতে পারে। আগামীকালও আবহাওয়া একই থাকবে। ৮ ডিসেম্বর থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে বলে যশোর বিমান বন্দর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছেন। টানা বৃষ্টির কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনে ব্যাঘাত ঘটছে। রবিবার যশোর জেলায় ২৭ মিলিমিটার; যা দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিন্ম ছিলো ২০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এদিন রেকর্ড করা হয় টেকনাফে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়ার আর সর্বোনিন্ম তেঁতুলিয়া ১৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাতের সঙ্গে শীতের তীব্রতাও বাড়বে বলে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে।

এদিকে, দুদিন ধরে টানা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারণে সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। সকাল থেকে খেটে খাওয়া মানুষকে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। যশোর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের ভ্যান চালক জামাল আহম্মেদ বলেন, ‘গত দুদিন ধরে বৃষ্টি ও শীতের কারণে ভ্যান চালাতে পারিনি। রোজগারও নেই। কোনো আয় না থাকায় অনেক কষ্টের মধ্যে আছি। ওই এলাকার রওশনারা বেগম নামের এক নারী বলেন, বৃষ্টি ও শীতের কারণে টিনের ঘরে বসবাস করতে কষ্ট হচ্ছে। এছাড়া মাঠে কাটা ধান ভিজে অনেক ক্ষতি হয়েছে। যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সরসকাঠি গ্রামের কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, দুদিন আগে ১২ কাটা জমির আমন ধান কেটে রেখেছি। কিন্তু দুদিন ধরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে ধানের ক্ষতি হয়েছে। এই বৃষ্টি যদি অব্যাহত থাকে ধানের অনেকটাই নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন বলেন এই কৃষক। সদরের চুড়ামনকাটি অঞ্চলের কৃষক বিল্লাল হোসেন জানান, এবার তিনি আড়াই বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছেন। ইতিমধ্যে ধান কাটা হয়ে গেছে। বিচালির জন্য মাচা করা হয়েছে। তবে মাঠের সবজির ক্ষতি হবে।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, যশোর জেলার কৃষকরা তাদের আমন ধান ঘরে নেওয়া শেষ পর্যায়ে। এই বৃষ্টিতে আমন ধান ঘরে তুলতে বৃষ্টি কিছুটা বাগড়া দিয়েছে। যদি এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকে তাহলে ধানের কিছুটা ক্ষতি হবে। সেই সাথে শীতকালীন সবজি, মসুর ও সরিষার ক্ষতি হবে। এতে কৃষিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

শেয়ার