শার্শা ও বাঘারপাড়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় অর্ধশত আহত, হাসপাতালে ভর্তি ১৩

শার্শা ও বাঘারপাড়ায় নির্বাচনী সহিংসতায়  অর্ধশত আহত, হাসপাতালে ভর্তি ১৩এ্যান্টনি দাস অপু
তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে যশোরে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় অন্তত: ৫০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩ জন। গতকাল দিনভর ভোটগ্রহণ চলাকালে বাঘারপাড়া ও শার্শায় নৌকা প্রতীকের সমর্থক ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষে এসব আহতের ঘটনা ঘটে। এদিকে, নির্বাচনী সহিংসতায় আহতদের একের পর এক যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে হাসপাতাল চত্বরে স্বজনদের ছুটোছুটি, কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। আহতদের অধিকাংশই শঙ্কামুক্ত।

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সকাল সাড়ে দশটার দিকে তালা প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী শামসুর রহমানের সমর্থকদের সাথে মোরগ প্রতীকের প্রার্থী আশরাফুল ইসলামের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় মোরগ প্রতীকের আশরাফুল ইসলামের ৪ সমর্থক গুরুতরসহ আরও দশ কর্মী আহত হন। গুরুতর আহতরা হলেন, দৌলতপুর গ্রামের নোয়াব আলী বিশ্বাসের দুই ছেলে বাবলু (৫০) ও মিন্টু(৪৫) এবং জালাল বিশ্বাসের ছেলে তুষার (৩০), খাইরুল ইসলাম (৫০)।

একই উপজেলায় বেলা ১০টার দিকে জোহরপুর ইউনিয়নে হলিহট্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী বদরউদ্দিন মোল্লার ১০ থেকে ১২ জন সমর্থক নৌকার প্রার্থী আসাদুজ্জামান মিন্টুর ৮ থেকে ১০ জন সমর্থকের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ ঘটনায় পদ্মবিলা গ্রামের হালিম মোল্লার ছেলে সাকিব (২২)সহ ৫/৬জন গুরুতর আহত হন। পরে এলাকাবাসী সাকিবকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বাকিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। আহতদের অভিযোগ, নৌকার প্রার্থীর কর্মীরা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা তদের বাধা দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

অন্যদিকে শার্শা উপজেলার ডিহি, নিজামপুর ও বাগআঁচড়া ইউনিয়নে পৃথক সংঘর্ষ হয়েছে। সকালে ডিহি ইউনিয়নের শালকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে মোরগ প্রতীকের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় তালা প্রতীকের সমর্থকরা। এতে মোরগ প্রতীকের মেম্বার পদপ্রার্থী শহীদ ইসলামের ৪ কর্মী গুরুতর আহত হন। অভিযোগ উঠেছে, তালা প্রতীকের তরিকুল ইসলাম তোতার নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৩৫ জন প্রতিপক্ষ মোরগ প্রতীকের প্রার্থী শহীদ ইসলামের সমর্থকের ওপর হামলা চালায়। হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, শালকোনা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ফারুক হোসেন (৩০), শাহজাহানের ছেলে রাসেল (২৫), ফজর আলীর ছেলে মিজানুর রহমান (২৬) ও আকবর আলীর ছেলে সুমন (২৫)।

এদিকে দুপুরে একই উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের ছুরিকাঘাতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন। নিজামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর গোড়পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, পিতা আলিমুর রহমান (৫৫) ও তার ছেলে রাব্বি হোসেন (৩০)। আহতদের অভিযোগ, ভোটার স্লিপ বিতরণকালে প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থী আনারস প্রতীকের আশরাফুল আলম বাটুলের সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থী সেলিম রেজা বিপুলের চশমা প্রতীকের সমর্থকের ওপর হামলা চালায়। এতে দুজন ছুরিকাহত হন।

অপরদিকে বাগআঁচড়া ইউনিয়নে মেম্বার প্রার্থী টিউবওয়েল প্রতীকের ডা. আলী আহমেদের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন কর্মী ইউনিয়নের বসমপুর ২ নম্বর কোলোনী এলাকার নৌকার প্রার্থী ইলিয়াস কবীর বকুলের সমর্থক মৃত সমসের মন্ডলের ছেলে রবিউল হোসেন (৬০) ও তার ছেলে সাইফুল ইসলাম সুজনের (৩৫) ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে গুরুতর জখম করে। আহতরা জানান, তারা দুপুরে ভোটকেন্দ্র থেকে ইজিবাইকে করে ফিরছিলেন। এমন সময় পথিমধ্যে ডা. আলী আহমেদের লোকজন বাধা দিয়ে ইজিবাইক ভাঙচুরসহ বাবা রবিউল ও ছেলে সুজনকে মারধর করে। সন্ধ্যায় তাদের আহত অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়াও নির্বাচনী সহিংসতায় আরও ২০ থেকে ২৫ জন আহত অবস্থায় শার্শা ও বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

শেয়ার