ঝিনাইদহের স্কুলছাত্র রাতুল মামলার চার্জশিট, বোন ভগ্নিপতিসহ অভিযুক্ত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আপন বোন ও ভগ্নিপতিসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে ঝিনাইদহের স্কুল ছাত্র এহতেশাম মাহমুদ রাতুল মামলার চার্জশিট দিয়েছে যশোরের ডিবি পুলিশ।

চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কাশিপুর গ্রামের হায়দার আলী মণ্ডলের ছেলে শিশির আহমেদ, তার স্ত্রী নিহত রাতুলের বোন মাহমুদা মমতাজ মীম ও একই গ্রামের আশাদুল ইসলামের ছেলে শাওন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলার বাজিপোতা গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে সামবাজার এম.পি.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র রাতুল। গত ১১ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় রাতুল। পরদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে যশোরের চৌগাছা উপজেলার লস্করপুর শ্মশান মাঠের একটি পাটক্ষেত থেকে মুখে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় তার লাশ প্রথমে অজ্ঞাতনামা হিসেবে উদ্ধার করা হয়। পরে রাতুলের পিতা মহিউদ্দিন লাশটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ১৩ জুলাই নিহতের পিতা মহিউদ্দিন অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে চৌগাছা থানায় মামলা করেন।

মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান ডিবি পুলিশের এসআই শামীম হোসেন। তিনি নানা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে নিহতের ভগ্নিপতি রাতুলকে আটক করেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে শিশির হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। নিহতের বোন মীমের সাথে শিশিরের প্রেমজ সম্পর্ক ছিলো। এক পর্যায়ে তারা দু’জনে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। নিহতের পিতা মহিউদ্দিন পরে তাদের বিয়ে মেনে নিলেও জামাইকে বাড়িতে ডেকে এনে অপমান-অপদস্থ করেন। এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী মীমের পরিকল্পনায় মোবাইল ফোন করে চৌগাছার লস্করপুর গ্রামে ডেকে এনে রাতুলকে হত্যা করেন শিশির। হত্যাকাণ্ডে শিশিরের সাথে তার বন্ধু শাওন ছিলো। তদন্তে মীম, শিশির ও শাওনের পরিকল্পনা ও হত্যার সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় এই ৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম হোসেন।

শেয়ার