যশোরের ৩৫টি ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে প্রশাসনের কঠোর প্রস্তুতি

মণিরামপুর, বাঘারপাড়া ও শার্শা উপজেলায় নির্বাচন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ তৃতীয় ধাপে যশোরের মণিরামপুর, বাঘারপাড়া ও শার্শা উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ আজ। উৎসবমুখর এ নির্বাচন নিয়ে যেমন রয়েছে উত্তেজনা, তেমনি ভোটার ও প্রার্থীদের মাঝে রয়েছে শঙ্কাও। তবে যশোরের প্রশাসন বলছে, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট আয়োজনে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ ভোটগ্রহণ চলবে। সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে ২৭ ম্যাজিস্ট্রেট, ৩ প্লাটুন বিজিবি, ২ হাজার ৫৯১ পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে ভোটগ্রহণের দিন (আজ) ভোরে প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছানো হচ্ছে ব্যালট পেপার।

যশোর জেলা নির্বাচন অফিসের সূত্র মতে, তিন উপজেলায় ইউপি চেয়ারম্যান-সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৮৭৮ প্রার্থী। ৩৫ ইউনিয়নের মধ্যে ৩ ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ হবে ইভিএমে। যেসব এলাকায় ব্যালট পেপারে ভোট হবে সেখানে আজ ভোটের দিন সকালে ব্যালট পাঠানো হবে। তিন উপজেলার মধ্যে বাঘারপাড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৭১ প্রার্থী। এর মধ্যে ৫০ চেয়ারম্যান প্রার্থী, সংরক্ষিত আসনে ১০২ ও সাধারণ আসনে ৩১৯ প্রার্থী। ৮১ কেন্দ্রের ৪৮৫ বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে। ভোটগ্রহণে দায়িত্ব পালন করবেন ৮১ প্রিজাইডিং অফিসার, ৪৮৫ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ থাকবেন ৯৭০জন পোলিং অফিসার। এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৭৫ জন।
মণিরামপুরের ১৬টি ইউনিয়নে মোট প্রার্থী ৮৬৩। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৭৮, সংরক্ষিত ১৮০ ও সাধারণ আসনে ৬০৫জন। এ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে ১৫২ কেন্দ্রের ৮০৫টি বুথে। নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন ১৫২ প্রিজাইডিং অফিসার, ৮০৫ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ৬১০ জন পোলিং অফিসার। মোট ভোটার ২ লাখ ৯৪ হাজার ৯২১জন।

শার্শা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫৪৪ প্রার্থী। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪৩, সাধারণ আসনে ৪০৬ ও সংরক্ষিত আসনে ৯৫ জন। এ উপজেলায় ১০৮টি কেন্দ্রে ৬২৭টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন ১০৮ প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৬২৭ ও পোলিং অফিসার ১ হাজার ২৫৪ জন। এ উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার ৪৮ জন।

তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তিন উপজেলার নির্বাচনী এলাকাতে ভোট নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অনেক প্রার্থী কেন্দ্র দখলের শঙ্কাও প্রকাশ করেন। এ ছাড়া ভোটার, এজেন্ট ও প্রার্থীদের হুমকি-ধামকি দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এই নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। যদিও তিন উপজেলার সকল বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের ইতিমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কারের পর কোনো কোনো ইউনিয়নে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাও দিয়েছেন।

এদিকে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসন ব্যাপক তৎপর রয়েছে। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার আতিকুল ইসলাম বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ইতিমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ছাড়াও ৬ জন আনসার মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় ৩ প্লাটুন বিজিবি ও ২৭ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন থাকছে।

যশোর জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিন উপজেলায় ২ হাজার ৫৯২ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে মণিরামপুরে ১ হাজার ১৫৫, শার্শায় ৮০৩ ও বাঘারপাড়ায় ৬৩৪ জন। নির্বাচনে কোনো বিশৃঙ্খলা প্রশ্রয় দেয়া হবে না। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কঠোর অবস্থানে থাকবে পুলিশ প্রশাসন।

শেয়ার