যশোর সদরের বিভিন্ন ইউনিয়নে আ’লীগের বর্ধিতসভা মঞ্চ দখল করে ‘অনাহুত’দের বিশৃঙ্খলা

  যশোর সদরের বিভিন্ন ইউনিয়নে আ’লীগের বর্ধিতসভা মঞ্চ দখল করে ‘অনাহুত’দের বিশৃঙ্খলা নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর সদর উপজেলার আসন্ন ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভাগুলোতে চেয়ার দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন ‘অনাহুত কতিপয় নেতা’। সভায় আমন্ত্রিত না হয়েও ওই নেতারা মঞ্চে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের জন্য নির্ধারিত চেয়ার দখল করছেন। এতে বর্ধিতসভায় বিশৃঙ্খলা ও হই-হট্টগোলের ঘটনাও ঘটছে। একইসাথে তাদের বহরে থাকা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আগমনে সভাস্থলের আশপাশে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিও সৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল যশোর সদরের চাঁচড়া ভাতুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্ধিত সভায়ও এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনা নিয়ে বিব্রত ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার এমন ‘পেশীশক্তির মহড়া’ মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘদিন পর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা উজ্জ্বীবিত হচ্ছেন। কিন্তু অতিথিদের আসার আগেই কতিপয় ‘অনাহুত’ নেতা সভায় যোগদিয়ে মঞ্চে কার আগে কে বসবে এ নিয়ে হুলস্থূল কাণ্ড করছেন। এমন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানের সভাপতি, প্রধান অতিথি-বিশেষ অতিথিরা জায়গা পাচ্ছেন না। তাদের জায়গা হচ্ছে মঞ্চের বাইরে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের পরবর্তী ধাপের নির্বাচনে সদর উপজেলার সকল ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এজন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে ইচ্ছুকসহ ইউনিয়নের নির্ধারিত নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশেষ বর্ধিত সভা করছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। মূলত সদরের সকল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাই ও তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে এই বর্ধিত সভা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ছিলো চাঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা। চাঁচড়ার ভাতুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ। প্রধান বক্তা ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম। দলীয় প্রটোকল অনুযায়ী বর্ধিত সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক অতিথি হিসাবে থাকবেন। সেই অনুযায়ী আয়োজকরা সভাপতি সম্পাদককে অতিথি হিসাবে রাখলেও মঞ্চে জায়গা হয়নি তাদের। তাদের জায়গায় মঞ্চ দখল করেন সভায় ‘অনাহুত’ জেলা কমিটির কয়েকজন কতিপয় নেতা। এরপর সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলা। পাশাপাশি ‘অনাহুত’ নেতাদের বহরে আসা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের উপস্থিতিতে সভাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই চাঁচড়া ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ডের নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় আটজন প্রার্থী নাম লিখিয়েছেন। তারা হলেন, সাবেক ছাত্রলীগনেতা শামীম রেজা, আওয়ামী লীগনেতা মঞ্জুরে মাহাবুব, সেলিম রেজা পান্নু, ফিরোজ কবির পিকলু, কবিউজ্জামান কাজল, সাজ্জাত হোসেন বাবু, আনোয়ারুল কবির আনু ও সদর উপজেলা যুব মহিলা লীগনেত্রী শেখ সাদিয়া মৌরিন। এর আগে বর্ধিত সভায় সদর উপজেলা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ ও সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে বলেন। একইসাথে দলীয় সভানেত্রী যাকে নৌকা দেবেন তাকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে কাজ করতে আহ্বান জানান। পাশাপাশি দলের বিরুদ্ধে যে অবস্থান নেবে তাকে দলীয় ভাবে বহিষ্কারেরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন নেতৃদ্বয়।

বর্ধিত সভায় উপস্থিত ইউনিয়ন ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেন, ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকা চূড়ান্ত ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে বর্ধিত সভা করছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। বর্ধিত সভাগুলো শুরু থেকে ইউনিয়ন ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ সম্পন্ন করছেন।
ইউনিয়ন ও উপজেলা নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, আমন্ত্রিত না হয়েও জেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক ও বর্তমান কতিপয় নেতা ইউনিয়নগুলোর বর্ধিত সভায় উপস্থিত হচ্ছেন। এমনকি বর্ধিত সভার প্রধান অতিথি, প্রধান বক্তাসহ সভাপতির চেয়ার দখল করে বসে থাকছেন। এতে বিঘিœত হচ্ছে সভার কার্যক্রম। তাদের সাথে আসা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের উপস্থিতিতে সভাস্থলের আশপাশেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। সূত্রটি বলছে, বর্ধিত সভায় জেলা কমিটির সহ সভাপতি মেহেদী হাসান মিন্টু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা ফরিদ আহম্মেদ চৌধুরীকে দাওয়াত না দিলেও ইউনিয়নের বর্ধিত সভাগুলোতে তারা উপস্থিত হচ্ছেন। ফলে প্রতিটি সভায় বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।

এই বিষয়ে জানতে যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে যারা আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চাইছেন তাদের অতীত ও বর্তমান কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্র মনোনয়ন দেবে। কেন্দ্র থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে, দলের বৃহত্তর স্বার্থে সেই প্রার্থীর পক্ষে নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তাই আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে ও তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে এবং ইউনিয়ন সভাপতি ও সম্পাদকের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে আমন্ত্রিত নন এমন কয়েকজন নেতা ও তাদের বহিরাগত সহযোগীদের উপস্থিতিতে সভায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। একইসাথে সভাস্থলের বাইরেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

শেয়ার