যশোরে স্ত্রীকে কুপিয়ে পালিয়েছে স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে মোবাইল ফোনে স্ত্রীকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারপিট ও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা করেছে এক পাষন্ড স্বামী। স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে ভেবে সে নিজেই চিৎকার দিয়ে এলাকার লোকজন জড়ো করে। কিন্তু যখন জানতে পারে স্ত্রী মারা যায়নি-তখনই পালিয়েছে স্বামী আবেদ আলী।

গুরুতর জখম স্ত্রীর নাম আসমা খাতুন (২২)। তিনি এক কন্যা সন্তানের জননী। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের বনপাড়া গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের মেয়ে আসমার বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের মাঠপাড়া গ্রামের লালু মিয়ার ছেলে আবেদের সাথে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ আসমা জানান, প্রেম করে ৫ বছর তাদের আগে বিয়ে হয়েছিল। দাম্পত্য জীবনে ৪ বছর বয়সের একটি মেয়ে সন্তান জন্ম রয়েছে। তার স্বামী আবেদ বিভিন্ন জেলায় রড মিস্ত্রির কাজ করেন। কাজের সুবাদে ঢাকায় এক মেয়ের সাথে তার পরকীয়ার সম্পর্ক হয়েছে। এরপর থেকেই গত এক বছর ধরে আবেদ বিভিন্ন সময়ে কোন কারণ ছাড়াই আমাকে মারধর করে আসছে। তিনি অভিযোগে বলেন, বিভিন্ন সময় আবেদ আমার বাবার কাছে মোটা অংকের টাকা ও মোটরসাইকেল দাবি করে না পেয়ে মারধর করেছেন। এক পর্যায়ে আবেদের পরকীয়ার সম্পর্কের কথা জানতে পেরে যাওয়ায় সে আমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকালে আবেদ মোবাইল থেকে ফোন করে আসমাকে দেখা করতে বলে। আসমা সেখানে যান। গ্রামের নির্জন এলাকায় ডেকে নিয়ে স্বামী আবেদ আসমার মাথায় কিল-ঘুষি মারে এবং এলোপাতাড়ীভাবে শরীরের ছয়টি স্থানে ছুরিকাঘাত করে। এসময় আসমা অজ্ঞান হয়ে গেলে মারা গেছে ভেবে আবেদ চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করে। প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে আসমাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে আসমা বেঁচে আছে-এমন খবরে আবেদ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
হাসপাতালে চিকিৎসক আব্দুর রশিদ জানান, অজ্ঞান অবস্থায় বুধবার রাতে আসমাকে গ্রামবাসী ভর্তি করেন। তার শরীরে একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

শেয়ার