মণিরামপুরের ভোজগাতি ইউনিয়ন ॥ হামলা হুমকিতে আতঙ্কিত নৌকার প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের মণিরামপুরের ভোজগাতি ইউনিয়নে নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। ভোজগাতি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত দুই প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক ও শহিদুল ইসলাম মোড়লের পোষ্য সন্ত্রাসীরা নৌকা প্রার্থীর কর্মীদের মারপিট ও খুন জখমের হুমকি দিয়ে আসছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী প্রভাষক আছমাতুন্নাহার।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রার্থী আছমাতুন্নাহারের স্বামী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হানিফ খোকন, ভোজগাতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনিচুর রহমান তজু, ভোজগাতি ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক মহিবুল্লাহ, শিক্ষক ওলিয়ার রহমান, আওয়ামী লীগ কর্মী ইকবাল হোসেন, শিবপদ, মফিজুর রহমান, জামজামি গ্রামের বাবলু, সোহাগ প্রমুখ।
নৌকা প্রতীকের প্রার্থী প্রভাষক আছমাতুন্নাহার অভিযোগ করে বলেন, মণিরামপুর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতা ও জনপ্রতিনিধির নির্দেশে প্রশাসন কানে তুলো দিয়ে বসে আছে। বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক এবং ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মোড়ল দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। যে কারণে আওয়ামী লীগ তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। এরপরও তারা নির্বাচনী মাঠে অবস্থান করছে। দুই প্রার্থীর পোষ্য সন্ত্রাসীরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর কর্মী এবং সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা করতে নিষেধ করছে। এরপরও প্রচার কাজে যাওয়ায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হুরগাতি গ্রামের সিরাজুল ইসলামকে মারপিট করেছে। ওই দুই প্রার্থীর সন্ত্রাসীরা ভোটারদের কাছে বলছে আমরা মণিরামপুরের একজন শীর্ষ জনপ্রতিনিধির আশির্বাদপুষ্ট হয়ে নির্বাচন করছি। শীর্ষ নেতাদের সাথে পরামর্শ করেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এই ব্যাপারে উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আছমাতুন্নাহার পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলেও তার অভিযোগ।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আছমাতুন্নাহার আরো বলেন, তার আট ভাই-বোনের সংসারে সকলেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত। যে কারণে ২০১৪ সালে জামায়াত-বিএনপির তা-বে ৫ ভাই ও আছমাতুন্নাহার কয়েকমাস পলাতক ছিলেন। তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি ওই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে। সন্ত্রাসীরা আছমাতুন্নাহারকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দেয়। প্রায় ৫ বছর ধরে অসুস্থ থেকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি।

শেয়ার