উইন্ডিজকে উড়িয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু শ্রীলঙ্কার

সমাজের কথা ডেস্ক॥ জয়ের মঞ্চ গড়া হয়েছিল আগের দিনই। শ্রীলঙ্কার অপেক্ষা কিছুটা দীর্ঘায়িত করেন এনক্রুমা বনার ও জশুয়া দা সিলভা। দলের বড় হার অবশ্য এড়াতে পারেননি তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্র শুরু করল লঙ্কানরা।

গলে বৃহস্পতিবার ম্যাচের পঞ্চম দিন ক্যারিবিয়ানদের ১৮৭ রানে হারিয়ে দুই টেস্টের সিরিজে এগিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রানের দিক থেকে স্বাগতিকদের এটি দ্বিতীয় বড় জয়। ৩৪৮ রানের লক্ষ্য দিয়ে প্রতিপক্ষকে তারা আটকে দেয় ১৬০ রানেই।

ম্যাচের শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কান স্পিনারদের বিপক্ষে ধুঁকেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলটিকে প্রথম ইনিংসে ২৩০ রানের পর এবার দুইশর আগে গুটিয়ে দেওয়ায় মূল ভূমিকা স্পিনারদের। সফরকারীদের ২০ উইকেটের ১৯টিই লঙ্কান তাদের শিকার।

দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবিয়ানদের অল্পতে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক লাসিথ এম্বুলদেনিয়া। ৪৬ রান দিয়ে তার প্রাপ্তি ৫ উইকেট। টেস্টে বাঁহাতি স্পিনারের এটি তৃতীয়বার পাঁচ উইকেট। তবে জয়ের ভিতটা আগের দিন ৪ উইকেট নিয়ে গড়ে দেন অফ স্পিনার রমেশ মেন্ডিস।

স্পিন সহায়ক উইকেটে প্রথম ইনিংসে ১৪৭ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৩ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন দিমুথ করুনারতেœ। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স লঙ্কান অধিনায়ককে এনে দিয়েছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

৬ উইকেটে ৫৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য ছিল একটাই, ম্যাচ বাঁচানো। সেই দিকে মনোযোগ দিয়েই সাবধানী ব্যাটিংয়ে এগোতে থাকেন বনার ও দা সিলভা। ২৯৬ রানে পিছিয়ে থেকে খেলতে নামা দলটির দিনের প্রথম বাউন্ডারি আসে ১৫তম ওভারে।

বনার ও দা সিলভার শক্ত প্রতিরোধ ভাঙার সুযোগ আসে ৪৯তম ওভারে। এম্বুলদেনিয়ার বলে শর্ট কাভারে ৪৩ রানে থাকা বনারের ক্যাচ মুঠোয় জমাতে পারেননি পাথুম নিশানকা।

এই জুটি অবশ্য এরপর টেকেনি বেশিক্ষণ। এম্বুলদেনিয়ার বলে স্লিপে ধরা পড়েন ১২১ বলে ফিফটি করা দা সিলভা। ৫ চারে ৫৪ রান করা এই কিপার-ব্যাটসম্যানের বিদায়ে ভাঙে ১০০ রানের জুটি। শ্রীলঙ্কার মাটিতে সপ্তম উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এটি সবচেয়ে বড় জুটি।

রাকিম কর্নওয়ালকে নিয়ে বনার চালিয়ে যান লড়াই। এই ব্যাটসম্যান ফিফটি তুলে নেন ১৮১। তাকে সঙ্গ দিয়ে যান কর্নওয়াল। তাদের মনোযোগ ছিল কেবল টিকে থাকায়।

দুই জনে প্রায় কাটিয়ে দিচ্ছিলেন আরেকটি সেশন। প্রাভিন জয়াবিক্রমা শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার মুখে হাসি এনে দেন কর্নওয়ালকে ফিরিয়ে। ধৈর্য হারিয়ে বড় শট খেলে লং-অফে ধরা পড়েন কর্নওয়াল।

প্রতিপক্ষের শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এম্বুলদেনিয়া। শ্রীলঙ্কাকে এনে দেন দারুণ এক জয়।

বনার শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৬৮ রানে। মাঝে আর একবার জীবন পান তিনি। রমেশ মেন্ডিসের বলে ৫৪ রানে শর্ট মিড-উইকেটে তার ক্যাচ ছাড়েন করুনারতেœ।

দুই দলের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু আগামী সোমবার।

 

শেয়ার