যশোরে তাঁতী লীগ নেতা কাকন খুনের মামলা সিআইডিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের আলোচিত তাঁতী লীগ নেতা আব্দুর রহমান কাকনের খুনিদের ধরতে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করেছে থানা পুলিশ। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই আব্দুর রহমান সিআইডি কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এদিকে গত আট দিনেও আব্দুর রহমান কাকনের খুনিদের আটক করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি এই খুনের কারণ ও উদঘাটন করতে পারেনি। এতে নানা আশংকা প্রকাশ করছে নিহতের পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলা তাঁতী লীগের সদস্য সচিব আব্দুর রহমান কাকনকে গত ১৭ নভেম্বর রাতে শহরের বারান্দী মোল্যাপাড়ায় সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনায় ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় নিহতের মা সুফিয়া বেগম অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। কিন্তু হত্যা ঘটনার আট দিন পার হলেও থানা পুলিশ ওই মামলার কোন আসামিকে আটক করতে পারেনি। এমনকি খুনের কারণ উদঘাটন ও খুনিদের সনাক্তও করতে পারেনি। ফলে মামলাটি অধিকতর তদন্ত এবং খুনিদের সনাক্ত ও আটকের জন্য সিআইডি পুলিশের উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার মামলাটি সিআইডি পুলিশ যশোরকে তদন্তের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি বারান্দী মোল্যাপাড়ায়। সেখানে একাধিক কারণে শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিঙে লিটন পরিবারের সাথে আব্দুর রহমান কাকনের বিরোধ চলে আসছিল। ড্রেনের স্লাব ভেঙ্গে ফেলায় ডিম রিপনের হুকুমে তার সন্ত্রাসীরা কাকনকে মারপিট করেছিল। তাছাড়া ফিঙে লিটনের স্ত্রী ফাতেমা আনোয়ার সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেন। ফতেপুর এলাকায় ফাতেমা আনোয়ারের নির্বাচনে কাকন কোন ক্ষতি করতে পারেন এমন সন্দেহ সংশয় ছিল ওই পরিবারের মধ্যে। সে কারণে ফিঙে লিটন পরিবার তাদেরই আত্মীয় জিতুসহ কয়েকজনকে দিয়ে এই হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। সূত্রে আরো জানা গেছে, এলাকার সাদ্দাম ও জিতুর সাথে তার কাকনের প্রায়ই দ্বন্দ্ব হতো। এরই অংশ হিসেবে ঘটনার দিন রাতে জিতু, নামান, সাদ্দাম, শফি, শামীম ও সানি তার উপর হামলা চালিয়ে হত্যাকান্ড ঘটায়। জিতু ও সাদ্দামকে সেল্টার দেয় ফিরোজ নামে ওই এলাকার এক ব্যক্তি। হত্যাকান্ডের পর চক্রটি এলাকার টগর নামে একজনের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছিল। যদিও ঘটনার দিন হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানা পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি, পিবিআই ও সিআইডি পুলিশের পৃথক টিম অভিযান পরিচালনা করেছিল। ঘটনার দিন অভিযানে ফিঙে লিটনের ভগ্নিপতি মাসুদুর রহমান নান্নুসহ ৫ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে হেফাজতের কথা স্বীকার করা হয়নি। পরবর্তীতে আবার তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু নান্নুর কাছ থেকে ১১০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়। নিহতের মা সুফিয়া বেগম বলেছেন, ঘটনার আট দিন পার হলেও মামলার কোন আসামিকে এখনও আটক করা হয়নি। পাশাপাশি খুনিদের সনাক্ত ও কারণও উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

শেয়ার