পৃথক তিন অস্ত্র মামলায় যশোরে তিন সন্ত্রাসীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ পৃথক তিনটি অস্ত্র মামলায় যশোরে তিন সন্ত্রাসীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মোস্তফা কামাল এই রায় দিয়েছেন। সরকার পক্ষে মামলাগুলো পরিচালনা করেছেন অতিরিক্ত পিপি বিমল কুমার রায়।
দ-প্রাপ্ত আসামিরা হলো, যশোর শহরের বেজপাড়া বুনোপাড়ার বনানী রোডের হাফিজুর রহমানের বাড়ির ভাড়াটিয়া খোকন শেখের ছেলে সাব্বির হোসেন সাগর, সদর উপজেলার পাগলাদাহ গ্রামের হাসান মোল্যার ছেলে মহিদুল ইসলাম মুন্না ও ঝিকরগাছা উপজেলার বর্নি গ্রামের দক্ষিণপাড়ার এরশাদ আলীর ছেলে আব্দুল গফুর।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ২০০৫ সালের ৩১ জুন শহরের গাড়িখানা রোডে অভিযান চালিয়ে সাব্বির হোসেন সাগরকে আটক করে। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এব্যাপারে এসআই আব্দুল করিম অস্ত্র আইনে সাব্বির হোসেন সাগরের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। এ মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি সাগরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে ১০ বছর সশ্রম কারাদ-ের আদেশ দিয়েছেন। দ-প্রাপ্ত সাগর জেলহাজতে আটক আছে।
এছাড়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০২০ সালের ২৫ জুন যশোর শহরের পুরাতন কসবা ফাঁড়ি পুলিশ পাগলাদাহ গ্রামের মহিদুল ইসলাম মুন্নার বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় মুন্না, হাসান ও জিন্না নামে তিনজনকে আটক করা হয়। আসামিদের স্বীকারোক্তিতে মুন্নার ঘরে রাইচ কুকারের মধ্যে থেকে একটি গুলি ভর্তি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া হাসান ও জিন্নার রুম থেকে একটি চাকু ও খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে ওই তিন সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে এসআই সুকুমার কুন্ডু কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় মুন্নাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি মুন্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক অস্ত্র আইনের ১৯-এ ধারায় ১৪ বছর সশ্রম ও ১৯-এফ ধারায় ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। দ-প্রাপ্ত মুন্না জেলহাজতে আটক আছে।

অপরদিকে, ২০০৯ সালের ৭ মার্চ রাতে ঝিরগাছা উপজেলার কাউরিয়া গ্রামের মাঠ থেকে আব্দুস সামাদ মোড়লের স্যালো মেশিন চুরি হয়ে যায়। পরদিন বিকেলে নারাঙ্গালী মোড়ে আব্দুস ছামাদ দেখেন গফুর, বিল্লাল, লালন ও হজরত বসে আছে। সামাদ এসময় হজরতকে মেশিন চুরির কথা বলা মাত্রই আসামি গফুর তার উপর চড়াও হয়। এরই মধ্যে গফুর কোমর থেকে পাইপগান বের করে সামাদকে মারার জন্য আক্রমণ করে। চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে তাদের ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। আটক আব্দুল গফুরকে আসামি দিয়ে অস্ত্র আইনে ঝিকরগাছা থানায় একটি মামলা হয়। তদন্ত শেষে এসআই আকরাম হোসেন অভিযোগে সত্যতা পেয়ে আসামি আব্দুল গফুরকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি আব্দুল গফুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে ১০ বছর সশ্রম করাদ-ের আদেশ দিয়েছেন। দ-প্রাপ্ত আব্দুল গফুর পলাতক আছে।

শেয়ার