সাতক্ষীরায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নৌকার প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি॥ সরকারের উন্নয়নে বাঁধা সৃষ্টিকারী বন ও ভূমিদস্যু সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের সাত্তার মোড়ল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন-কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজ উদ্দীন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। আমি কালিগঞ্জ উপজেলার ২নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে সুনামের সাথে গত ৫ বছর চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আর এজন্যই আগামী ২৮ নভেম্বর কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউপিতে অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পুনরায় নৌকা প্রতিক দিয়েছেন। আমি আমার ইউনিয়নে আ’লীগের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বন্দেকাটি গ্রামের ভূমিদস্যু সাত্তার মোড়ল এবং তার বাহিনীর অন্যতম সদস্য হত্যাসহ একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি আকবর মোড়ল, আব্দুল কাদেরসহ তাদের দোসররা এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে। তারা গোপন বৈঠকের মাধ্যমে বিশৃংখলা সৃষ্টি ও সরকারের উন্নয়নে বাঁধা সৃষ্টিকরাসহ বহু অপকর্ম করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের কারণে আমি বর্তমানে ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছি। তিনি বলেন, ২০১২ ও ১৩ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে আগুন জ্বালানো ও সহিংসতার অর্থদাতা, বহু অপকর্মের হোতা সাত্তার মোড়ল ও তার বাহিনীর প্রধান সন্ত্রাসী, হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ডজনখানেক মামলার আসামি নুরুল ডাকাত, আকবর মোড়লসহ ১৫/২০ জনের চিহ্নিত সন্ত্রাসী আমার ও আমার পরিবারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কোন সময় আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের খুন, গুম ও হত্যা করবে বলে বিভিন্ন সময় তারা সাত্তার মোড়লের বাড়িতে গোপন বৈঠক করে চলেছে। নৌকা প্রতিকের কর্মী ও সমর্থকদেরও তারা বিভিন্ন সময়ে খুন গুমের পাশাপাশি সারাজীবনের জন্যে পঙ্গু করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। গত দুই তিনদিন সন্ত্রাসী আব্দুল কাদের, আশরাফুল, সাঈদ, শাহিন, রুইনসহ ৫০/৬০ জনের সশস্ত্র দল পিকআপ ও ইঞ্জিন ভ্যানে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করছে। তিনি আরো বলেন, গত সোমবার রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে আমার ভাই শেখ আব্দুর রহমান ইউনিয়নের হোগলা মোড় নামক স্থানে নৌকা প্রতিকের অফিস থেকে বাড়ি ফিরছিলেন, এ সময় ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বিএনপি নেতা এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ির সংলগ্ন এলাকা অতিক্রমের সময়ে অতর্কিতভাবে তাকে এবং আমার কর্মী আলাউদ্দীনকে পথরোধ করে মোটরসাইকেল ভাংচুর করে এবং লোহার রডদিয়ে তাদের এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তারা আমাকেও এমনিভাবে পথেঘাটে তাদের সন্ত্রাসীদের দিয়ে যখন তখন খুন গুম করতে পারে বলে আমি আশংকা করছি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি সাত্তার মোড়ল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি, ডিআইজি, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শেয়ার