বাংলাদেশকে কৃতিত্ব দিলেন সাকলায়েন

সমাজের কথা ডেস্ক॥ শেষ ৩ ওভারে প্রয়োজন ১৯ রান, হাতে ৮ উইকেট। একটি ওভার আবার করবেন অনিয়মিত কোনো বোলার। ম্যাচ তাই তখন অনেকটাই পাকিস্তানের মুঠোয়। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ যেভাবে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিল, তাতে মুগ্ধ পাকিস্তান কোচ সাকলায়েন মুশতাক।

বোলিং হাতে চোট নিয়েও ১৮তম ওভারে স্রেফ চারটি সিঙ্গেল দেন তাসকিন আহমেদ। অভিষিক্ত শহিদুল ইসলাম পরের ওভারের শুরুতে ‘নো’ বল করলেও পরে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দেন কেবল ৭ রান।

মূল বোলারদের সবার বোলিং শেষ। পুঁজি স্রেফ ৮ রান। আফিফ হোসেন, নাজমুল হোসেন, শামীম হোসেন ছিলেন মাঠে, যারা অফ স্পিন করতে পারেন। তবে দায়িত্বটা নিজের কাঁধেই নেন মাহমুদউল্লাহ। বিপিএলে এমন পরিস্থিতিতে শেষ ওভারে বোলিং করে দলকে জেতানোর অভিজ্ঞতা আছে তার।

প্রথম বলটি সুইপ করার চেষ্টায় ব্যাটে খেলতে পারেননি সরফরাজ। পরের বলে তিনি ধরা পড়েন ডিপ মিডউইকেটে। তৃতীয় বলে লং অনে ক্যাচ দেন হায়দার আলি।

প্রথম তিন বলে নেই কোনো রান, উল্টো ফিরে যান দুই ব্যাটসম্যান। চতুর্থ বলে ইফতেখার আহমেদ মারেন বিশাল ছক্কা। পরের বলেই তিনি ফিরেন থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে। শেষ বলে প্রয়োজন পড়ে দুই রান। নানা নাটকীয়তা পেরিয়ে চার মেরে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান মোহাম্মদ নওয়াজ।

একটা সময় ভাবাই কঠিন ছিল ম্যাচ গড়াবে শেষ বল পর্যন্ত। কিন্তু এদিন মাঠে বাংলাদেশ ছিল উজ্জীবিত। লড়াই করে যায় শেষ পর্যন্ত। বোলিং হাতে চোট নিয়েও মাঠে ফেরা তাসকিনসহ সবার শরীরী ভাষায় বোঝা যাচ্ছিল, হোয়াইটওয়াশ এড়াতে কতটা মরিয়া তারা।

তীরে এসে তরী ডোবার শঙ্কা পেরিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে ভীষণ খুশি সাকলায়েন। ম্যাচ শেষে জানালেন, বাংলাদেশের লড়াই দাগ কেটেছে তার মনে।

“ম্যাচ এমন জমে যাওয়ার কৃতিত্ব বাংলাদেশের। বিশেষ করে মাহমুদউল্লাহ যেভাবে শেষ ওভারে বোলিং করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।”

শেষ ওভারে আউট হওয়া তিন ব্যাটসম্যানের একজন- হায়দার ম্যাচ সেরার পুরস্কার নেওয়ার সময় বলেন, যতটা তিনি ভেবেছিলেন শেষ দিকে এর চেয়ে কঠিন হয়ে গিয়েছিল ম্যাচ।

“ম্যাচ খুব ক্লোজ হয়ে গিয়েছিল। সৌভাগ্যবশত আমরা জিততে পেরেছি।”

শেয়ার