রাজধানী থেকে নিখোঁজ তিন বোন যশোরে উদ্ধার

 টিকটকে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়নি যশোর পুলিশ
 পালিয়ে এসেছিলেন যশোরে অসুস্থ বাবা’র বাসায়

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ রাজধানীর আদাবর হতে নিখোঁজ তিন বোনকে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ উদ্ধার করেছে। শুক্রবার যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ যশোর সদর উপজেলার চাঁদপাড়া পশ্চিমপাড়ায় তাদের পিতার বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে। এরা হলেন, রুকাইয়া আরা চৌধুরী (২১), জয়নব আরা চৌধুরী (১৯)ও খাদিজা আরা চৌধুরী (১৭)। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

ঢাকা থেকে তাদেরকে টিকটকে আসক্ত বলা হলেও যশোর পুলিশের দাবি, তারা টিকটক আসক্ত নয়, তাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও নেই।

যশোর পুলিশের মুখপাত্র ডিবি ওসি রুপণ কুমার সরকার জানান, শুক্রবার যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই আনসারুল হক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোর সদর উপজেলার চাঁদপাড়া পশ্চিমপাড়া হতে ভিকটিম রুকাইয়া আরা চৌধুরী (২১), জয়নব আরা চৌধুরী (১৯) ও খাদিজা আরা চৌধুরীকে (১৭) উদ্ধার করেছে। তাদের পিতা রফিকুজ্জামান ও মাতা মৃত- তাসনিম আরা চৌধুরী।

ডিবি ওসি রুপণ কুমার সরকার আরও জানান, উদ্ধারকৃত ভিকটিমরা তাদের বাবা মায়ের সাথে উত্তরা লেকসিটি কনকর্ডে ভাড়া বাসায় থাকত। ২০১২ সালের দিকে তাদের বাবা-মায়ের মধ্যে ঝগড়া হলে তাদের বাবা যশোর চলে আসেন এবং ভিকটিমরা মায়ের সাথে ঢাকায় থেকে যায়।

ভিকটিমদের বাবা রফিকুজ্জামান স্কুল শিক্ষক ছিলেন। ২০১৩ সালের ২৮ আগস্ট ভিকটিমদের মা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে ভিকটিম রুকাইয়া আরা চৌধুরীকে লালন-পালনের দায়িত্ব নেন তার খালা সাজিয়া নওরিন চৌধুরী এবং ভিকটিম জয়নব আরা চৌধুরী ও খাদিজা আরা চৌধুরীর লালন-পালনের দায়িত্ব নেন আরেক খালা সামিয়ারা চৌধুরী।

ভিকটিমদের লালন-পালনের এক পর্যায়ে গত ১৮ নভেম্বর সকাল ১১:০০ ঘটিকায় মুহাম্মদপুর বাসা থেকে তিনজন ভিকটিম নিখোঁজ হন এবং এ সংক্রান্ত সাজিয়া নওরিন আদাবর থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন। জিডি নং-৮৭৫, তাং-১৮/১১/২১ ইং।

ভিকটিমদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জানা যায়, তাদের বাবা-মা আলাদাভাবে বসবাসের পর হতে ২০১২ সালের পর তাদের বাবার সাথে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি এবং তাদের উপর অত্যাচার করা হতো। তাই ভিকটিম তিনবোন পরামর্শ করে মুহাম্মদপুর হতে পালিয়ে যশোরে বাবার বাড়ি চলে আসে।

ডিবি ওসি রুপণ কুমার সরকার আরও জানান, ভিকটিমদের বাবা এখন প্যারালাইজড্ ও শয্যাশায়ী। তার বাসায় এই তিন বসে এসে অবস্থান করছিলেন। তারা টিকটক আসক্ত; এই তথ্য সঠিক নয়। কারণ তাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও নেই।

এদিকে সন্ধান পাওয়া নিখোঁজ ওই তিনজনের খালা সাজিদা নওরীন ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, আমার বড় বোন তিন বছর আগে মারা যান। আর দুলাভাই অন্য জায়গায় বিয়ে করেন। খিলগাঁওয়ে আমার ছোট বোনের বাসায় থাকতো তিন ভাগ্নি রোকেয়া, জয়নব ও খাদিজা। জয়নব ও খাদিজার এসএসসির পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ধানমন্ডি গার্লস হাইস্কুলে। সে কারণে আদাবরে আমার বাসায় এসে তারা পরীক্ষা দিচ্ছিল। গত ১৫ নভেম্বর একটি পরীক্ষা হয়েছে তাদের। আরও দুটি পরীক্ষা বাকি। এর মধ্যেই হঠাৎ তারা একসঙ্গে বাসা থেকে কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে যায়।

তিনি বলেন, নিখোঁজের পরপরই আদাবর থানায় যাই। কিন্তু থানা থেকে প্রথমে জিডি কিংবা মামলা না নিতে চাইলে আমি কান্নাকাটি করি। আমার কান্নাকাটি দেখে তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা পর একটি জিডি লিপিবদ্ধ করে।
তার তিন ভাগ্নি টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে আসক্ত ছিলেন জানিয়ে সাজিদা নওরীন বলেন, টিকটকের মাধ্যমে কারও প্ররোচনায় তারা বাসা থেকে বের হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছি। যাওয়ার সময় তাদের পিএসসি, জেএসসির সার্টিফিকেট, টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। বয়স কম হওয়ায় অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করতাম। তারা আমাদের মোবাইল ছাড়া অন্য কোনো মোবাইল ব্যবহার করতো না। তবে লুকিয়ে কোনো মোবাইল ব্যবহার করতো কি না তা আমরা জানি না।

এ বিষয়ে আদাবর থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, ওই বাসার সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পেয়েছি, তারা তিনজন ব্যাগ গুছিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।

শেয়ার