বিলম্বিত এইচএসসিতে বসবে ১৪ লাখ শিক্ষার্থী

সমাজের কথা ডেস্ক॥ করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে পিছিয়ে যাওয়া উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ২ ডিসেম্বর থেকে, যাতে অংশ নেবে প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সংক্ষিপ্ত সিলেবাসেই হবে এবারের পরীক্ষা।

করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে গতবছর সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শেষ পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা আর নেওয়াই সম্ভব হয়নি। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের গড় করে শিক্ষার্থীদের এইচএসসির মূল্যায়ন ফল প্রকাশ করা হয়।

মহামারীর কারণে এবারও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তবে সংক্রমণ কমে এলে সরকার পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। গত ১৪ নভেম্বর শুরু হয় এসএসসি পরীক্ষা। ডিসেম্বরে শিক্ষার্থীরা বসবে এইচএসসিতে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, গত বছর থেকে এবার শিক্ষার্থী বেড়েছে ৩৩ হাজার ৯০১ জন। ১২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কেন্দ্র বেড়েছে ২০টি।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৭ শিক্ষার্থী এবার এইচএসসি পরীক্ষা দেবে। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪৪ জন আলিম পরীক্ষায় এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৩ জন বিএম ও ভোকেশনাল পরীক্ষা দেবে।

২০২১ সালের সংশোধিত ও পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাসে গ্রুপভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে ছয়টি পত্রের পরীক্ষা দিতে হবে তাদের। তিন ঘন্টার বদলে পরীক্ষা হবে দেড় ঘন্টার। বাংলা, ইংরেজির মত আবশ্যিক বিষয়গুলোতে এবার পরীক্ষা না নিয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের ২৫টির এমসিকিউ প্রশ্নের মধ্যে ১২টির উত্তর দিতে হবে। সময় ১৫ মিনিট। আর তত্ত্বীয় পরীক্ষায় আটটি প্রশ্নের মধ্যে দুটির উত্তর দিতে হবে। সময় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট।

মানবিক ও ব্যবসায় শাখার পরীক্ষার্থীদের ৩০টি এমসিকিউ প্রশ্নের মধ্যে ১৫টির উত্তর দিতে হবে; সময় ১৫মিনিট। তত্ত্বীয় পরীক্ষায় ১১টি প্রশ্নের মধ্যে ৩টির উত্তর দিতে হবে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মধ্যে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্রে যাই লেখা থাক না কেন, পরীক্ষার সময় এই নম্বর বণ্টন ও সময় বিভাজনই অনুসরণ করতে হবে।

“প্রশ্নপত্রগুলো করা হয়েছিল, পুরো তিনটা পরীক্ষা হবে সেই হিসাবে। কাজেই সেখানে লেখা আছে (বিজ্ঞানে) ৮টি প্রশ্নের মধ্যে হয়ত পাঁচটি প্রশ্ন দেবার কথা। কিন্তু আমরা যেহেতু অর্ধেক সময়ে নেবার কথা বলছি, সে কারণে উত্তর কম দিতে হবে, অপশন বেশি পাওয়া যাবে।”

তিনি জানান, পুরো সময়ে পরীক্ষা হলে ব্যবসায় ও মানবিকে ১১টি প্রশ্নের মধ্যে সাতটির উত্তর দিতে হত। আর বিজ্ঞানে ৮টির মধ্যে ৫টির উত্তর দিতে হত।

অন্যদিকে, এমসিকিউর ক্ষেত্রে বিজ্ঞানে ২৫টির মধ্যে ২৫টি দিতে হত, এখন ১২টি দিতে হবে। আর ব্যবসায় ও মানবিকে ৩০টির মধ্যে ৩০টি দিতে হত। এখন ১৫টি দিতে হবে।
>> নয়টি সাধারণ বোর্ডসহ ১১ বোর্ডে মোট ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষার্থী এবার উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেবে।

>> তাদের মধ্যে ৭ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৮ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫২ জন ছাত্রী।

>> ৯ হাজার ১৮৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেবে ২ হাজার ৬২১টি কেন্দ্রে।

 

শেয়ার