এমপির ডিও লেটার জালিয়াতি করে মাদ্রাসা সভাপতি হওয়ার চেষ্টা !

 যশোর জেলা আ’লীগ সভাপতি মিলনের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মাদ্রাসার সভাপতি হতে যশোর সদরের এমপি কাজী নাবিল আহমেদের ডিও লেটার জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন এমন অভিযোগ করে সোমবার থানায় মামলা করেছেন। মামলায় উপশহর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ (সাময়িক বহিস্কৃত) চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিরা হলেন, উপশহর আলিম মাদ্রাসার সাময়িক বহিস্কৃত অধ্যক্ষ জাকারিয়া হোসেন, নতুন উপশহরের রজনীগন্ধা এলাকার মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে নুরুল ইসলাম, উপশহর আলিম মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক মফিজুর রহমান।

মামলার বাদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মামলায় বলেছেন, তিনি গত ১৮ আগস্ট থেকে পরবর্তী ৬ মাসের জন্য উপশহর আলিম মাদ্রাসার এডহক কমিটির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু পরস্পর যোগসাজসে আসামিরা ১০ আগস্ট মনগড়া অবস্থায় উপশহর সি ব্লকের শওকত হোসেনকে সভাপতিসহ তিন সদস্যের একটি কমিটির তালিকা প্রস্তুত করে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে প্রেরণ করে। প্রস্তুতকৃত ওই তালিকায় জালিয়াতির মাধ্যমে যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের সীল সহি সংযুক্ত করে ডিও লেটার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দফতরে জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ওই তালিকাটিও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড অনুমোদন না দেয়ায় বর্তমানে কমিটি ছাড়াই প্রতিষ্ঠান চলতে থাকায় শিক্ষা মান অবনতি হয়েছে। পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে অধ্যক্ষ সাময়িক বরখাস্ত থাকায় জেষ্ঠ্য শিক্ষক (আরবি প্রভাষক) নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করে। ফলে শিক্ষার মানের বিষয়টি বিবেচনা করে যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ গত ১৮ আগস্ট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনকে সভাপতি করার জন্য একটি ডিও লেটার প্রদান করেন। ওই ডিও লেটারের ভিত্তিতে শহিদুল ইসলাম মিলন সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু পরস্পর যোগসাজসে আসামিরা জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম ওই মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট না থাকলেও তার কুপরামর্শে বাদী শহিদুল ইসলাম মিলনের নামে হাইকোর্টে ৯৮১৬/২০২১ নম্বর একটি রিট পিটিশন করেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ এই মামলা করার ক্ষমতা অর্পণ করেছেন।

শেয়ার