যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ঘিরে চোরচক্র সক্রিয়

 মোবাইল ফোন, টাকা এবং ওষুধ চুরি হলেও দেখার কেউ নেই

এ্যান্টনি দাস অপু
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘিরে চোরচক্র সক্রিয় রয়েছে। চোরেরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে দিনেরাতে সুযোগ পেলেই রোগীদের বেড থেকে ওষুধ, টাকা পয়সা, মোবাইলসহ বিভিন্ন দামি সরঞ্জাম চুরি করে নিচ্ছে। এমনকি ওষুধ ঠিক আছে কি না; দেখে দেওয়ার নাম করে রোগীর কাছ থেকে ওষুধের প্যাকেট নিয়ে চম্পট দেয়। চুরির বিষয় নিয়ে কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেও সুরাহা হয় না।

সম্প্রতি বেনাপোলের পুটখালীর মোজাম্মেল হক (৭১) নামের এক বীরমুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা চুরি হয়েছে। মোজাম্মেল হক জানান, গত ১১ নভেম্বর তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের তৃতীয় তলায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত ১নং বেডে ভর্তি হন। পরদিন ১২ নভেম্বর রাতে তার মানিব্যাগ থেকে ৮ হাজার টাকা চুরি হয়। এরপর তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং ওয়ার্ডের দায়িত্বরতদের জানান। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাননি।

যশোর শহরের বারান্দিপাড়া এলাকার নূর মোহম্মদের মেয়ে জাহানারা বেগম (৬০) জানান, তিনি ৯ নভেম্বর মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হন। তার পরিবার অতি দরিদ্র হওয়ায় চিকিৎসার জন্য ওষুধ কিনতে পারছিলেন না। তার স্বজনরা রোগী কল্যাণ সমিতির শরণাপন্ন হলে সমিতির পক্ষ থেকে তাকে প্রায় এক হাজার দুইশত টাকা মূল্যের ওষুধ দেয়া হয়। ১৩ নভেম্বর দিনের বেলায় তার স্বজনদের কাছে ওষুধ ঠিক আছে কি না দেখার নাম করে ওষুধ নিয়ে চম্পট দেয় অপরিচিত ব্যক্তি। ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, হঠাৎ ওষুধ দেখতে চাওয়ায় তারা হসপিটালের কোন সেবাকর্মী ভেবে ওষুধ দেখতে দেন। আর এই সুযোগে ওষুধ নিয়ে চম্পট দেয় চোরচক্র। এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছেন। কিন্তু সুফল পাননি।

এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন যশোরের দৈনিক সমাজের কথা’র স্টাফ রিপোর্টার লাবুয়াল হক রিপন। তিনি বলেন, গত ১৭ অক্টোবর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিনি হাসপাতালের ২য় তলায় সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হন। এসময় রাত যেতে না যেতেই তার কাছে থাকা একটি মোবাইল ফোন এবং তিন হাজার টাকা মানিব্যাগসহ চুরি হয়ে যায়। এ বিষয়ে ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা সেবিকাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা এরকম অহরহ শুনছি। যে- সে এসে ওষুধ দেখতে চাইলে রোগীরা দেখাচ্ছে আর চোর সুযোগে দামি ওষুধ নিয়ে চম্পট দিচ্ছে। আমাদের ওয়ার্ডবয়দের নির্ধারিত পোশাক না থাকায় তাদের বিষয়টির দিকে নজর দিতে কষ্ট হয়।

জানতে চাইলে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, আমি চুরির ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবো। এছাড়া এ বিষয়ে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদেরও অবগত করেছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, সব থেকে আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে ওয়ার্ডবয়দের পোশাক নেই। যার ফলে আরো বেশি সমস্যা হচ্ছে। শীঘ্রই পোশাকের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

শেয়ার