সাতক্ষীরার ১৩ ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা॥ দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে দ্বিতীয় ধাপের সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের নির্বাচন। দিনভর ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্য করার মত। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভোট গণনার কাজ চলছিল।

এদিকে, নির্বাচনী সহিংসতায় বৈকারী ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে এক হামলায় তারা আহত হন। আহতদের মধ্যে ১২ জনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার বৈকারী ইউনিয়নের খলিলনগর কেন্দ্রে মোটরসাইকেল প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফার পোলিং এজেন্ট বের করে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে দু’পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে ঘটনা ঘটে। এতে নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদুজ্জামান অসলেসহ উভয়পক্ষের ১২ জন আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানায়, আহতদের মধ্যে প্রথমে ৫ জনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আরও ৭জনকে সদর হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীনরা হলেন-আসাদুজ্জামান অসলে (৬০), জহির রায়হান (২২), আব্দুস সামাদ (৫০), মাসুদ গণি (২২), আবু সাইদ (২৮), আরিফ হোসেন (৩৬), গোলাম মোস্তফা(৪৮), হাফিজুল ইসলাম (৪০), মজনুর রহমান (৩৬), মনিরুল ইসলাম (৩৫), আনিসুর রহমান (৩১) ও সাইদুর রহমান (২৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বৈকারী ইউনিয়নের কাথন্ডা ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী আব্দুল জলিলের বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। এতে আব্দুল জলিলসহ তিনজন আহত হন। ভোমরা ইউনিয়নের চৌবাড়িয়ায় পল্লীশ্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে মুহুর্মুহু পটকা ফুটিয়ে আতঙ্ক তৈরির অভিযোগ রয়েছে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর তৎপরতা ছিল লক্ষনীয়। বৈকারী ছাড়া বাকি ১২টি ইউনিয়নে উল্লেখ করার মত নির্বাচনী সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। এরআগে সকালে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পৌঁছানোর পর শুরু হয় ভোট গ্রহণ।

সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে ১৩টি ইউনিয়নে ৬৪জন চেয়ারম্যান, ৪৯১ জন সাধারন সদস্য ও ১৬০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। ১২৬টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন এস.আইএর নেতৃত্বে ৫জন পুলিশ ও ১৭জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা টহলে ছিলেন।

বৈকারী ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা পুলিশের পরিদর্শক আবুল কালাম জানান, দুপক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তারপর থেকে পরিস্থিতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল কবির জানান, দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ১৩টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। শহর উপকণ্ঠের লাবসা ইউনিয়নের তালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ওই কেন্দ্রের ৫ হাজার ৩শ’ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৪ হাজার ১শ’ জন ভোটার। ভোট প্রদানের হার প্রায় ৭৮ শতাংশ।

শেয়ার