ইউপি নির্বাচন : ঝিকরগাছা ও চৌগাছায় ভোট উৎসব

 বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষে আহত ১৫, ভোটকেন্দ্রে পুলিশের গাড়ি ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া যশোরের ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। যশোরের ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচনে মাড়–য়া স্কুলকেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের সঙ্গে নৌকা’র প্রার্থীর সমর্থকদের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাংচুর ও অন্তত ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এসময় কেন্দ্রে একঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল।

আর ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা এবং দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের পৃথক সংঘর্ষে ১০ জন আহতের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পৃথক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচনে মাড়–য়া স্কুলকেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জগদীশপুর ইউনিয়নে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী তবিবর রহমান খান কেন্দ্রে আসার পর তার সমর্থকরা হট্টগোল শুরু করেন। এ সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে সমর্থকরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। ইটের আঘাতে ৪/৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশের একটি গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে স্টাইকিং ফোর্স ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অন্তত ৫ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে কেন্দ্র থেকে পুলিশ জিয়া ও মামুন হোসেন নামে দুই আওয়ামী লীগ সমর্থককে আটক করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এক ঘণ্টা পর আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
মাড়–য়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ওহিদুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের পর ভোট গ্রহণ বন্ধ করা হয়। এর আগে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী তবিবর রহমান খান কেন্দ্রে ঢুকে তাকে হুমকি ধামকি দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনাস্থলে থাকা চৌগাছা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাফি বিন কবীর বলেন, হামলায় পুলিশের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ভোট গ্রহণ শুরুর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এর আগে সকালে ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থক ও দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষে ১০ জন আহতের ঘটনা ঘটেছে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইউনিয়নের সোনাকুড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে পৃথক এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের ৪ জন যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহতরা হলেন, নৌকার প্রার্থীর সমর্থক বাঁকড়ার হানিফ গাজীর ছেলে সুমন হোসেন (৩০), আমানত গাজীর ছেলে তুহিন গাজী(৪০) এবং ৩নং ওয়ার্ডের টিউবওয়েল প্রতীকের প্রার্থী এরশাদ আলী (৩৫), মেম্বর প্রার্থীর সমর্থক সোনাকূড়ের মৃত আব্দুল মিস্ত্রীর ছেলে আব্দুল লতিফ (৫০) এবং একই এলাকার মৃত রমজান মোড়লের ছেলে সলেমান মোড়ল(৬০), একই এলাকার পিয়ার আলী(৪০), মোহাম্মদ আলী (৪৫) ও নুরুজ্জামান (৪০)।
নৌকা প্রতীকের আহত সমর্থকরা জানান, সকালে তারা নৌকার প্রার্থী আতাউর রহমান মিন্টুর নির্বাচনী কাজ করছিলেন। এমন সময় মোটরসাইকেল প্রতীকের সতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে নাবিছ উদ্দিন, সোলেমান, লতিফসহ তার অর্ধশতাধিক সমর্থক লাঠিসোটা নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এসময় নৌকার ৮ জন কর্মী আহত হন।

মেম্বার প্রার্থী টিউবওয়েল প্রতীকের এরশাদ আলীর আহত কর্মীরা জানান, প্রতিপক্ষ মেম্বার প্রার্থী মোরগ মার্কার আয়নালের লোকজন কেন্দ্রে ঢুকে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় টিউবওয়েলের কর্মীরা বাধা দিলে কেন্দ্রের ভেতর ঢুকে তাদের উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায় মোরগ প্রতীকের কর্মীরা। পরে আহতদের ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও যশোর সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বৃহস্পতিবার যশোরের ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের ২২৫টি ভোট কেন্দ্রের ১ হাজার ৮৫টি বুথে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ২২টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ, ইসলামী আন্দোলন, জাকের পার্টি এবং বাংলাদেশ কংগ্রেস সমর্থিত ও স্বতন্ত্র ৮৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পাশাপাশি ভোট করেছেন ২৩০ জন সংরক্ষিত এবং ৭৯৬ জন সাধারণ সদস্য প্রার্থী। তবে এবারের নির্বাচনে চৌগাছা সদর ও ফুলসারা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সাথে বিনাভোটে জয়ী হয়েছেন দুই ইউপি সদস্যও। সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ করতে প্রতিটি কেন্দ্রেই ১০ জন করে ভোট গ্রহণ সংশ্লিষ্টসহ কর্মকতার সাথে ৭ জন পুলিশের সাথে ৪ জন আনসার সদস্যকে দায়িত্ব পালন করেছেন।

চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছাদুল হক জানান, দু’একটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া গোটা উপজেলায় উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাধারণ মানুষ নির্বিঘেœ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

শেয়ার