তেল-গ্যাসের দাম ও গণপরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ এনডিএফ’র

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে জর্জরিত জনগণের উপর জ্বালানি তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ধারায় গণপরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি দ্রব্যমূল্য আরেক দফা বৃদ্ধিসহ জনজীবনকে আরো দুর্বিসহ করবে আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট। এক বিবৃতিতে সংগঠনের জেলা সভাপতি আব্দুল হক ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান এই দাবি জানিয়ে বলেন, নিত্যপণ্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতিতে এমনিতেই জনজীবন দিশেহারা। তার ওপর সরকার জ্বালানি তেল-গ্যাসের দাম অন্যায্যভাবে বৃদ্ধির ধারায় সড়ক ও নৌপথে গণপরিবহন ভাড়া প্রায় ২৭-৩৫% বৃদ্ধি করেছে এবং যাত্রীবাহী নৌযানে শনিবার বিকাল থেকে মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে ভাড়া বাড়িয়ে নিয়েছে। জ্বালানী তেল-গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পণ্য ও যাত্রী পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনেও খরচ বৃদ্ধি পাবে, যা দ্রব্যমূল্যের উপর্যুপরি বৃদ্ধির ক্ষেত্র সৃষ্টি করছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে জনগণের প্রাত্যহিক জীবনে। গণপরিবহন ভাড়া ও জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ঘাত-প্রতিঘাত একমুখী নয়, বহুমুখী। পরোক্ষভাবে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সব পণ্যের পরিবহন ব্যয় বাড়বে। জ্বালানি তেলের ১৬ শতাংশ ব্যবহার হয় কৃষিতে। ফলে বাড়বে সেচের ব্যয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পড়বে নেতিবাচক প্রভাব। এখনো দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৩২ শতাংশ জ্বালানি তেলনির্ভর। ব্যয় বাড়বে সেখানেও।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বগতির কারণে গত ৩ নভেম্বর রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। নতুন দাম ভোক্তা পর্যায়ে ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়, যা বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এর পরদিনই পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু করেন বাস-ট্রাকসহ পণ্যবাহী যানবাহনের মালিকরা। তাদের দাবি ডিজেলের দাম না কমানো হলে গণপরিবহনসহ অন্যান্য পরিবহনের ভাড়া সমন্বয় করতে হবে। – সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

শেয়ার