৫ ব্যক্তিকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি সাড়ে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ৫ ব্যক্তিকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাড়ে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার যশোরের আদালতে মামলা হয়েছে। ৩ জনকে আসামি করে মামলাটি করেছেন আব্দুস সোবহান নামে এক ব্যক্তি। তিনি যশোরের কেশবপুর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের মৃত দিরাজতুল্যাহ মোড়লের ছেলে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুদ্দীন হোসাইন অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে আদেশ দিয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ৭ নম্বর জয়নগর প্রাইমারি স্কুল এলাকার মৃত জাফর আলীর ছেলে মাহবুবুর রহমান ওরফে বিদ্যুৎ, তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা এবং বুড়িগোয়ালিনি এলাকার সামছুর রহমান খানের ছেলে শাহাজাহান আলী খান ওরফে রনি।

আব্দুস সোবহানের অভিযোগ, আসামি বিদ্যুৎ ও রনি পরস্পর খালাতো ভাই। এর মধ্যে রনি তার পূর্ব পরিচিত। সেই সুবাদে আসামি রনি তাকে জানান, ‘তার খালাতো ভাই বিদ্যুৎ দীর্ঘ ২০ বছর বিদেশে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। তিনি বহু লোকজনকে বিদেশে ভালো চাকরির ব্যবস্থাও করছেন।’ রনি’র এই কথা শুনে আব্দুস সোবহানের স্বজনদের মধ্যে ৫ জন মালয়েশিয়ায় যেতে রাজি হন। এ সময় আসামি রনি ও বিদ্যুৎ জনপ্রতি আড়াই লাখ করে ৫ জন বাবদ মোট সাড়ে ১২ লাখ টাকা দাবি করেন। কথা হয় টাকা জমা দিলে অল্পদিনের মধ্যে বৈধ পাসপোর্ট ভিসার মাধ্যমে ৫ জনকে তারা ভালো বেতনের চাকরিতে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দিবেন। এতে কোনো অসুবিধা হবে না। ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর আসামিরা আব্দুস সোবহানের বাড়িতে আসেন। সেখানে আসামি বিদ্যুৎ ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমার কাছে ১ লাখ টাকা দেয়া হয়। এরপর ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময় আসামিদেরকে আরো ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৬শ’ টাকা দেয়া হয়। পরে আসামিদের কথামত আসামি বিদ্যুতের কাছে ৫ জনের পাসপোর্ট জমা দেয়া হয়। ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জাল ভিসা লাগিয়ে আব্দুস সোবহানের কাছে ৫টি পাসপোর্ট দেন আসামিরা। কিন্তু জাল ভিসার কারণে ৫ জনের কেউই বিদেশে যেতে পারেননি। পরে আসামিদের কাছে জাল ভিসা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দেননি। এ কারণে তাদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তারা তালবাহনা করতে থাকেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি আসামিদেরকে আব্দুস সোবহানের বাড়িতে ডেকে এনে শালিস বৈঠক করা হয়। সেখানে তাদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তারা দিতে অস্বীকার করেন। এ কারণে কোনো উপায় না পেয়ে আব্দুস সোবহান আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

শেয়ার