যশোরে ২১ রুটে বাস চলাচল বন্ধে দুর্ভোগ

রেল স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে যশোরে ২১ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো যানবাহন। হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। বিকল্প হিসেবে অনেকে ট্রেনে যাতায়াত করেছেন। তবে সেটি ছিলো যুদ্ধের শামিল। রেল স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। এদিকে, গণপরিবহন বন্ধের সুযোগে বাড়তি ভাড়া আদায়ের সুযোগ নিচ্ছে সিএনজি-ইজিবাইকসহ অন্যান্য পরিবহনগুলো। জরুরি কাজে বের হওয়া এসব মানুষ নিরুপায় হয়ে অনেকেই বেশি ভাড়া দিয়ে নিজ গন্তব্যে যান।

জানা যায়, যশোর শহরের মণিহার, শংকরপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও খাজুরা বাস স্ট্যান্ড থেকে অন্তত ২১টি রুটে বাস চলাচল করে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই শুক্রবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া চরম বিড়ম্বনায় পড়েন যাত্রীরা। যাত্রীরা তাদের গন্তব্য স্থানে যাওয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টিকিট করতে এসে দেখেন বাস চলছে না। হুট করে দেওয়া এমন ধর্মঘটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। আর এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে অটোরিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক চালকরা। যে জায়গার ভাড়া সাধারণ সময়ে ১৫ টাকা ছিল সেই জায়গায় তারা ২৫ থেকে শুরু করে ৩০ টাকা নেয়। আর গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য অনেকে ট্রেনে যাতায়াত করেছেন। কিন্তু ট্রেনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ে ভোগান্তি আরও বেড়েছে কয়েকগুণ। যাত্রীদের দাবি, দ্রুত যাতে এই ধর্মঘট প্রত্যাহার করে তাদের ভোগান্তি থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

যশোর শংকরপুর বাসটার্মিনালে সাইদুল নামে এক যাত্রী বলেন, ঝিনাইদহ থেকে খুব কষ্টে ভেঙে ভেঙে যশোর এসেছি। যেতে হবে খুলনায়। কিভাবে গন্তব্যে যাবো ভেবে পাচ্ছি না। সাগর নামে এক চাকরি প্রার্থী বলেন, খুলনায় চাকরির পরীক্ষা দিতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিপাকে পড়েছি। ঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারবো কিনা অনিশ্চিত। খাজুরা বাস স্ট্যান্ডে যাত্রী খাইরুল আলম জানান, তিনি মাগুরা যাবেন এক আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে। সকালে বাস স্ট্যান্ডে এসে জানতে পারেন, পরিবহন ধর্মঘট। কোনো বাস চলবে না। যশোর থেকে মাগুরা পর্যন্ত বাস ভাড়া ৫০ টাকা। বাস বন্ধ থাকায় ইজিবাইকে ভাড়া দাবি করছে একশ’ টাকা। কোনো উপায় না থাকায় ওই টাকা দিয়েই তাকে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। ইজিবাইক চালক আব্দুল মালেককে ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিবহন বন্ধ থাকার কারণে তাদের আয় একটু বেশি হচ্ছে। তবে খরচও বাড়ছে। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেশি ভাড়ায় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন।

এদিকে, ‘ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মালিকরা বাধ্য হয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছেন’ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খান এমপি’র গণমাধ্যমে এমন মন্তব্যে যশোর বাস মালিক সমিতির সভাপতি অপু কাপুড়িয়া জানিয়েছেন, পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির এমন মন্তব্য সঠিক না। আসলে করোনার সময় চার মাস গাড়ি বন্ধ ছিল। আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। গাড়ির যন্ত্রাংশ, গাড়ির ট্যাক্স টোকেনের দাম বেড়েছে। সেসব কারণে শ্রমিকরা গাড়ি চালাতে চায় না-আমরাও জোর করছি না। আর যশোর জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু বলেন, করোনায় সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে পরিবহন খাতের। এমন সময়ে তেলের দাম এক লাফে ১৫ টাকা বৃদ্ধি জুলুম। আমরা যাত্রীদের সাথে বাসভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্ব ফ্যাসাদে যেতে চায় না। তাই ডিজেলের দাম না কমা পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।

শেয়ার