বন্দবিলা ইউপিতে নৌকার প্রার্থী মনোনয়ন পুনরায় বিবেচনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের বাঘারপাড়ার বন্দবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর দলীয় মনোনয়ন পুনরায় বিবেচনার দাবি উঠেছে। সোমবার প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মাসুম রেজা এমন দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার বাবা মরহুম ডা. আলতাফ হোসেন ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের সময় দেওয়াল লিখনের কারণে তিনি গ্রেফতার হন। রাজনৈতিক দূরদর্শিতার এমন কথা জেনে ১৯৫৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সাথে খাজুরা বাজার দেখা করতে আসেন। অ্যাডভোকেট রওশন আলীকে সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধু তার সাথে দেখা করেন। এছাড়া তিনি বাঘারপাড়া এলাকায় ৬ দফা আন্দোলনের সংগঠক ছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধকালীন তিনি ভারতের চাপা বাড়িয়া ক্যাম্পে মেডিকেল অফিসার ও প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ করায় ৭১ সালে রাজাকাররা তাদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে হত্যার শিকারের পর প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্যাতিতও হন। আওয়ামী লীগের ক্রান্তিলগ্নে বাঘারপাড়ায় দলকে সুসংগঠিত করতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণও করেছেন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও বন্দবিলা ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রাজনীতির পাশাপাশি ডা. আলতাফ হোসেন শিক্ষা বিস্তারেও ভূমিকা রেখেছেন। খাজুরা বালিকা বিদ্যালয়, টিপিএম সরকারি বালিকা বিদ্যালয়েরও জমি দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা তিনি। এছাড়াও তিনি খাজুরা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্’র জমি দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা এবং সরকারি শহীদ সিরাজ উদ্দিন হোসেন মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও নাম প্রস্তাবকারী। তার রাজনৈতিক সহকারীরা হলেন সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট রওশন আলী, শাহ্ হাদিউজ্জামান ও অ্যাডভোকেট খান টিপু সুলতান।

সংবাদ সম্মেলনে মাসুম রেজা বলেন, ২০০৩ সালে যশোর পলিটেকনিক কলেজে ছাত্রলীগ করার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে আসেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা তাঁতীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সাথে যুক্ত আছেন সামাজিক নানা কর্মকান্ডে। ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হয়েছেন। এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়ে পাননি।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া সঞ্জীব কুমার বিশ্বাসের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা অল্পদিনের। ২০১৪ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত আক্তারুজ্জামান, জাহিদ হাসান ও রিয়াজ হোসেন।

 

শেয়ার