বিএনপি জামায়াত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর আঘাত হেনেছে -বাহাউদ্দিন নাছিম

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, বিদেশে বসে মিথ্যা অপপ্রচার তথ্য সন্ত্রাসের শামিল। এই তথ্যসন্ত্রাস ও মির্জা ফখরুলদের অপপ্রচার সাম্প্রদায়িক হামলাকারীদের রক্ষা করার একটি অপকৌশল মাত্র। শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা শিল্পকলা একডেমীতে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাহাউদ্দিন নাছিম আরও বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ দেখলে জন্য জাতির পিতার আদর্শ বাস্তবায়ন করা যাবে না। সত্যিকার অর্থে আওয়ামী লীগ হতে হবে। বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে বুকে ধারণ করতে হবে। শেখ হাসিনা আমাদের প্রাণ,তিনি আমাদের চেতনা। সেটা মেনেই রাজনীতি করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশে আজকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর আঘাত হানলো। শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে সামাজিক প্লাটফর্মের উপর ভর করে, অপপ্রচার করে, তথ্যসন্ত্রাস করে, তারা দায় দেয় কাদের! মির্জা ফখরুলদের এই অপপ্রচার সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের রক্ষা করার একটি কৌশল।

নাছিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচেছ। সেই অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে কাজ করছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলকে শক্তিশালী করা ও আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন কমিটি হচেছ। তারই ধারাবাহিকতায় এই বর্ধিত সভা।

বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, সারা বিশ্ব যখন অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পিছিয়ে রয়েছে তখন আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিগত সময়ে করোনাভাইরাসে যখন সারা বিশ্ব শঙ্কিত, তখন আপনারা যারা আওয়ামী লীগ করেন তারা কেউ ঘরে বসে থাকেননি। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ মানুষকে সহযোগিতা করেছে। কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়েছে।

তৃণমুল নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন সাম্প্রদায়িক হামলার মধ্য দিয়ে ওরা জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করতে চাইছে। তাই বিএনপির এই অপরাজনীতির বিরুদ্ধে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে। আপনাদের কাজ করতে হবে। আপনারাই এ দেশের আসল মালিক। আপনারাই হলেন আসল পাহারাদার।

সভায় খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, তৃণমূল থেকে দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এই নির্দেশনা মোতাবেক আমরা চাই অভ্যন্তরীণ বিরোধ মিটিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা কাজ করছি। তৃণমূলেই আওয়ামী লীগের শক্তি, কথাটি জেলা উপজেলার নেতাদের উপলব্ধি করতে হবে মনেপ্রাণে।

বিএম মোজাম্মেল হক বলেন,আওয়ামী লীগ খরস্রোতার মতো বহতা নদী। এ দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে, থাকবে। প্রতিযোগিতা থেকে কিছু জায়গায় প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সেগুলো নিরসনই আমাদের কাজ। সমস্যা যত কঠিনই হোক, নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করলেই তা সমাধান হয়। কোনো পক্ষ নেয়া যাবে না, যৌক্তিক কথা বলতে হবে। লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে আবেগতাড়িত না হয়ে কাজ করতে হবে।

বর্ধিত সভায় বিএম মোজাম্মেল অনুপ্রবেশকারী ও মতলববাজদের সম্পর্কে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা অনুপ্রবেশকারী ও মতলববাজরা। তারা আমাদের নেতাকর্মীদের অনেকের হাত ধরে বিভিন্ন পরিচয়ে, বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে দলে অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে। দলে আসে লুটপাট আর সুবিধা নিতে। এজন্য কিছু টাকাও খরচ করে। এদের নির্মূল করা আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ। যারা সুবিধা নিয়ে এদের দলে এনেছেন, আমরা তাদেরও চিহ্নিত করেছি। হয়তো সরাসরি বলি না। আওয়ামী লীগ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। কমিটি করার সময় সেগুলো আমলে নিই। বঙ্গবন্ধু কন্যার নির্দেশ আছে- যাদের বিচ্যুতি ঘটেছে তাদের কমিটিতে রাখছি না। নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল, তাদের মনোনয়ন দেয়া হচেছ না। এমনকি তাদের দলের পদেও রাখা হচেছ না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাড.আমিরুল আলম মিলন এমপি ও পারভীন জামান কল্পনা বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ততার জায়গা। সেই তৃণমূলকে সংগঠিত করতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। সংগঠনকে শক্তিশালীকরণের পাশাপাশি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের খোঁজ-খবর আমাদের নিতে হবে। দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অন্তর্বেদনা আমাদের বুঝতে হবে। প্রধানমš শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে, দেশ ও জাতির উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এমপির সভাপতিত্বে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার,ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল আজম খান চঞ্চল, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য খালেদা খানম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাসসহ অন্যান্যরা।
বর্ধিত সভায় ঝিনাইদহের ৬ টি উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার