গ্রুপের স্বস্তি নয়, বাংলাদেশ সুবিধা দেখছে দুপুরের ম্যাচে

সমাজের কথা ডেস্ক ॥ বাংলাদেশ সময় শুক্রবার বিকেল ৫টায় দুবাই রওনা হওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের। তবে দলের সঙ্গে হাবিবুল বাশারের যাওয়া নিশ্চিত নয়। ভিসা জটিলতায় তার যাওয়া পিছিয়ে যেতে পারে। তবে অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দল সুপার টুয়েলভের ‘ভিসা’ পেয়ে গেছে, এতেই খুশি দলের সঙ্গে থাকা এই নির্বাচক। পরের পর্ব নিয়েও একটি জায়গায় বড় আশার ছবি দেখছেন তিনি। বাংলাদেশ দলের সব ম্যাচই হবে যে দুপুরে! বাংলাদেশ গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে পা রাখার পর মূল আলোচনা চলছে গ্রুপ নিয়ে। প্রথম রাউন্ডে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে পরের ধাপে ভারত-পাকিস্তান-আফগানিস্তান-নিউ জিল্যান্ডের গ্রুপে পড়তে হতো। কিন্তু দ্বিতীয় হয়ে পরের পর্বে যাওয়ায় এখন বাংলাদেশের গ্রুপ সঙ্গী ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সঙ্গে জোর সম্ভাবনা আছে শ্রীলঙ্কার, যা বোঝা যাবে শুক্রবারের খেলাগুলি শেষে। খালি চোখে সাধারণ ক্রিকেট সমীকরণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্ডিশনে ভারত-পাকিস্তান-আফগানিস্তানের গ্রুপকে এড়িয়ে একটু স্বস্তিই পাওয়ার কথা। তবে হাবিবুল বাশার এখানে বাড়তি স্বস্তির কিছু দেখছেন না। তিনি বরং খুশি ম্যাচগুলোর সময় নিয়ে। সুপার টুয়েলভে ১ নম্বর গ্রুপে বাংলাদেশের ৫ ম্যাচের সবকটি শুরু দুপুর ২টায়। রাতের ম্যাচে এখানে শিশির ভেজা বলে বোলারদের কাজ কঠিন হয়ে ওঠে, বিশেষ করে স্পিনারদের জন্য বল গ্রিপ করাই হয়ে ওঠে চ্যালেঞ্জিং। বাংলাদেশের মূল শক্তি স্পিন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে হাবিবুল বললেন, এই গ্রুপে তিনি বাড়তি সুবিধার কিছু দেখছেন না, তবে তার কাছ আশার জায়গা দিনের ম্যাচ বলে। “মূল রাউন্ডে যে গ্রুপই পড়তাম, কঠিনই হতো। কোনো গ্রুপই সহজ নয়। সব দলই কঠিন, সবাই ভালো দল। এখানে আসলে ওরকম পছন্দ করার কিছু নেই। জিততে হলে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে, সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে, তা যে গ্রুপেই আমরা পড়ি। এই গ্রুপে ভালো, ওই গ্রুপে খারাপ, আমার কাছে এরকম কিছু মনে হচ্ছে না। যে গ্রুপেই পড়ি, ভালো না খেললে জিততে পারব না।” “একটা সুবিধা হয়েছে এই গ্রুপে, আমাদের খেলাগুলি দুপুরবেলা। দুপুরে খেলা হলে যেটা হয়ৃ রাতে স্পিন কম করে, দুপুরে খেলা আমাদের জন্য ভালো। এটা একটা সুবিধা হতে পারে। এটাই একটা বাড়তি সুবিধা মনে হচ্ছে।” এখন যেমন পরের পর্বে গ্রুপিং বা ম্যাচের সময় নিয়ে কথা বলা যাচ্ছে, একদিন আগেও সেই বাস্তবতা ছিল না। প্রথম ম্যাচের পর তো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কাই ঘিরে ধরেছিল প্রবলভাবে। ওমানে প্রস্তুতি পর্ব থেকেই দলের সঙ্গে থাকা হাবিবুল স্বীকার করলে, তারাও ভীষণ চাপে ছিলেন। সেই চাপ থেকে মুক্তির স্বস্তি এখন দলে দেখতে পাচ্ছেন হাবিবুল। পরের রাউন্ডে এত চাপ থাকবে না বলেই ভালো কিছুর আশা বেশি তার। “স্বস্তির তো বটেই। প্রথম ম্যাচ আসলেই একটা ধাক্কা ছিল। প্রচ- চাপে ছিলাম আমা সবদিক থেকেই। চাপে থাকার জন্যই হয়তো দ্বিতীয় ম্যাচ ঠিক নিজেদের মতো খেলতে পারিনি। শেষ ম্যাচটা বরং অনেক নির্ভার হয়ে খেলতে পেরেছি। যেজন্য অনেক কাছাকাছি যেতে পেরেছি (নিজেদের সেরাটার)। দ্বিতীয় রাউন্ডে নিশ্চিতভাবেই এত চাপ আমাদের ওপর থাকবে না এবং আমরা মোটামুটি ভালো খেলছি এখন পরিস্থিতি অনুযায়ী।” “মূল পর্বে তো অবশ্যই অনেক কঠিন লড়াই হবে। এটাও আমরা জানি। তবে প্রথম রাউন্ডে খেলার একটা বাড়তি চাপ ছিল। যেটা প্রথম ম্যাচ শেষে আরও বেড়েছে। তবে দিনশেষেৃ হ্যাঁ, চ্যাম্পিয়ন (গ্রুপে) হতে পারলে ভালো হতো। তবে শেষ ম্যাচটি ভালো ছিল আত্মবিশ্বাসের জন্য ও নিজেদের ফিরে পাওয়ার জন্য। যেভাবে খেলা দরকার ছিল, সেভাবে খেলেছি। তবে এখনও আমাদের অনেক জায়গায় অনেক অনেক উন্নতি করতে হবে মূল পর্বে ভালো করতে হলে।” প্রথম রাউন্ড উতরানোর পর বিশ্বকাপ আলোচনায় অবশ্য শুধু ক্রিকেটই নেই। পাপুয়া নিউ গিনির সঙ্গে রেকর্ড ব্যবধানের জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে অধিনয়ক মাহমুদউল্লাহ তাদের হতাশা-ক্ষোভের কথা জানান দলকে ‘ছোট’ করায়। সেখানে তার কাঠগড়ায় ছিল সংবাদমাধ্যম, সমর্থক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে বোর্ড সভাপতি পর্যন্ত। ক্রিকেট মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলনের পারফরম্যান্স নিয়েও আলোচনার ঝড় বইছে দেশের ক্রিকেট আঙিনায়। তাতে আবারও দলের মনোযোগ নড়ে যাওয়ার শঙ্কাও থাকছে। “এমনিতে এখন সবাই ভালো আছে। প্রথম ম্যাচের পর সবাই একটু আপসেট ছিল। অবশ্যই হারার জন্যই সবাই হতাশ ছিল। হারটা কেউ মেনে নিতে পারছিল না। এখন সব ভালো। কালকের পর আর তেমন কিছু হয়নি। এখন সবাই সেট। পরবর্তী পর্যায়ে কী করব, সেটা নিয়ে ভাবছে সবাই। দলের ভেতর মুড এখন এটাই। আমরা মূল পর্বে ভালো খেলতে চাই। এটা ছাড়া অন্য কিছু আর কেউ চিন্তা করছে না।”

শেয়ার