কচুয়া উপজেলা জুড়ে উদ্বেগ জনক ভাবে বেড়েছে চুরি

কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥ কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়ন সহ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় চুরির উপদ্রব বেড়েগেছে। করোনা কালিন মহামারিতে প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় কর্মসংস্থান সীমিত হওয়ায় মানুষের আয় কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিক ভাবে যখন চলতে হিমসিম খেতে হচ্ছে তখন চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বাড়ছে। সূত্রমতে মঘিয়া ১ নং ওয়ার্ড এর ফয়সাল এর বাড়ি থেকে গত ১৪ অক্টোবর রাত ২ টার দিকে ঘুমিয়ে থাকা তার স্ত্রীর ১ ভরি ওজনের স্বর্নের চেইন চোরেরা নিয়ে যায়। এ সময় বাড়িতে থাকা লোকজন ও এলাকা বাসী ধাওয়া দিলেও চোর পালিয়ে যায়। ফয়সাল জানান, ঘটনার সময় তিনি তার স্ত্রীর পাশে ঘুমানো ছিলেন কিন্তু ফ্যান চালানো থাকায় শব্দে বেড়া খুলে ফেলার শব্দ তিনি প্রথমে টের পাননি। চেইন নিয়ে যাওয়ার সময় স্ত্রীর চিৎকারে ঘুম ভেঙ্গে ধাওয়া দিলে চোর পালিয়ে যায়।

এছাড়া একই দিন রাত ৩ টায় মঘিয়া ইউনিয়নের খলিশাখালি গ্রামের ৩ নং ওয়ার্ডের তোফাজ্জেল মল্লিকের বাড়িতে চুরি করতে আসলে ধাওয়া খেয়ে চোর পালিয়ে যায়। তার ছেলে মল্লিক সাহিন জানান, তার ঘরের বাইরে থেকে দরজার সামনে তালা দিয়ে বাগানের সুপারি ও হাঁস মুরগী চুরির পরিকল্পনা ছিল তাদের।

এর কয়েক দিন আগে মঘিয়া ইউনিয়নের মঘিয়া গ্রামের গৃহিণী সিমা রানী মিস্তি জানান, পরিবারের সবাই ঘুমানো অবস্থায় মাঝ রাতে পিছন থেকে গর্ত খুড়ে ঘরে প্রবেশ করে নগদ টাকা, ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্নের চেইন ও মোবাইল ফোন সহ কিছু জিনিস পত্র নিয়ে যাওয়ায় সময় ধাওয়া দিলে চোর পালিয়ে যায়। এর আগে একই এলাকায় পর্যায়ক্রমে উত্তর মঘিয়ার মনমথন পাইকের গোয়ালঘর থেকে ১ টি গরু, আসাদুজ্জামানের গোয়াল ঘর থেকে বাছুর সহ ৩ টি গরু ও ১ টি ছাগল চুরি হয়।

মঘিয়া ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের মনি শেখ নামের একজন জানান, গত ১২ অক্টোবর তার নতুন ভবনের ছাদে উঠে মাঝরাতে তালা ভেঙ্গে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের রুমের ভিতর প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে জিম্মি করে নগদ টাকা স্বর্নের চেইন সহ মূল্যবান জিনিস পত্র নিয়ে যায়। এ সময় মনি শেখ কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকায় বাসায় ছিলেন না। তার স্ত্রী রেহেনা বেগমের তথ্য অনুযায়ী থানায় এ বিষয়ে একটি অভিযোগ করেছিলেন।অভিযোগে তিনি এলাকার চিহ্নিত তিন জনের নাম উল্লেখ করেন এরা হলেন গপ্ফার শেখের ছেলে নাদিম শেখ, নাহিদ শেখ ও শাগর শেখ। এছাড়া অজ্ঞাত নামা কয়েকজন সহ বিপ্লব নামের আরো একজন ছিলেন বলে তিনি জানান। ঘটনাস্থল থেকে ৬০০ টকা সহ একটি মানি ব্যাগ, ব্যবহৃত ১টি গামছা ও এক জোড়া জুতা আলামত হিসাবে পুলিশ হেফাজতে নেয়।

এদিকে এমন উদ্বেগ জনক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা যেমন বাড়ছে তেমনি অর্থনৈতিক সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে চুরির ঘটনাকে আমলে নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দাবী ভূক্তভোগীদের।

শেয়ার