যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রমে কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ধর্মীয় নানা আচারানুষ্ঠানে বুধবার কুমারীপূজা সম্পন্ন হয়েছে। একই সাথে এদিন অষ্টমী তিথির শেষ ও নবমী তিথির শুরুর সন্ধিক্ষণে দেবীর ‘সন্ধিপূজা’ সম্পন্ন হয়েছে। আজ ১৪ অক্টোবর শারদীয় উৎসবের ৪র্থ দিন মহাদুর্গানবমী তিথির সকালে দুর্গতিনাশে দেবী দুর্গার কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা সম্পন্ন হবে। শাস্ত্রমতে এ তিথিতে ১০৮টি পদ্মফুলে পূজিত হবেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে পূজা শুরু হবে সকাল সাড়ে ৬টায়।

যশোরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে এবছর অষ্টমী তিথিতে বেলা সাড়ে ১১টায় হয়েছে কুমারী পূজা। যশোরের মণিরামপুর শহিদ মুক্তিযোদ্ধা এ আর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাবা মিলন ঘোষাল ও আইনবিদ্যায় অধ্যয়নরত মা শ্যামলী চক্রবর্তী লতার সাড়ে চার বছরের শিশুকন্যা দৃষিতা ঘোষাল মামকে শাস্ত্রমতে ‘কালিকা’ নামে এবার মাতৃদেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়।

যশোরে কুমারীপূজার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ মহারাজ। এদিকে বুধবার শারদীয় উৎসবের মহাদুর্গাষ্টমী তিথিতে নতুন ও পরিচ্ছন্ন পোষাকে সজ্জিত হয়ে সকাল থেকেই মন্দির ও ম-পগুলোতে ছোট-বড় ভক্তদের পদচারণা বৃদ্ধি পেতে থাকে। বেলা বৃদ্ধির সাথে সাথে ভক্তদের ভীড় বাড়তেই থাকে।

এদিকে যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রমে বিশুদ্ধ সিন্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে মহাষ্টমী (অষ্টমী তিথির শেষ মুহুর্তের ২৪ মিনিট আর মহা নবমীতিথির শুরুর পর ২৪ মিনিট) সন্ধিক্ষণে অসুর শক্তি বিনাশের লক্ষ্য নিয়ে রাত আটটা ১৪ মিনিট থেকে নয়টা ২ মিনিটের মধ্যে দেবীর ‘সন্ধিপূজা’ সম্পন্ন হয়। একইসাথে ধর্মীয় ক্রিয়াদী সম্পন্ন করে অসুর শক্তি বিনাশে ‘প্রতীকী বলি’ কার্যকর করা হয়। বলির উপকরণ হিসেবে দেয়া হয় অখ- চালকুমড়ো, পাকাকলা ও আখ গাছ।

যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে এ বলি কার্যক্রমে প্রধান কাপালিকের ভূমিকা পালন করেন রমেশ হালদার। সহযোগী কাপালিকের ভূমিকায় ছিলেন নির্নয় দাস ও তন্ময় মালাকার। পুরোহিতের ভূমিকা পালন করেন শক্তি প্রসাদ গাঙ্গুলি। তন্ত্রধারকের দায়িত্ব পালন করেন প্রণয় চক্রবর্তী। সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রমে ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ মহারাজ।

শেয়ার