যশোরে আগুনে পুড়ে গৃহবধূর ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে শিরিন আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূ আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। তার পিত্রালয়ের স্বজনদের দাবি তার স্বামী গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। আর শ্বশুর বাড়ির লোকজনের দাবি, স্বামীর উপস্থিতিতে ওই গৃহবধূ নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
গত ১২ অক্টোবর দুপুরে যশোর শহরের আরবপুর মাঠপাড়ায় আগ্নিদগ্ধের ঘটনা ঘটে। রাত ১০ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মৃত শিরিনা আক্তার আরবপুর মাঠপাড়ার জুয়েল সরদারের স্ত্রী।

নিহতের পিতা ঝিকরগাছার কায়েমকোলা গ্রামের বাসিন্দা খলিলুর রহমানের দাবি, শিরিনকে তার স্বামী গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। কিন্তু নিহতের শ্বশুর বাড়ির লোকজনের দাবি, স্বামীর উপস্থিতিতে ওই গৃহবধূ নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

তবে এই ঘটনায় পুলিশ বলছে উভয় পক্ষের পৃথক দাবি থাকায় তদন্ত না করে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ তাসমিম আলম জানিয়েছেন, আরবপুর মাঠপাড়ার ওই এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে জুয়েল সরদারের সাথে প্রায় তিন বছর আগে ঝিকরগাছার কায়েমকোলা গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে শিরিন আক্তারের বিয়ে হয়। তবে জুয়েল সরদার এবং শিরিন আক্তারের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। দাম্পত্য জীবনে শিরিন আক্তারের গর্ভে সাকিব হাসান নামে (দেড় বছর) একটি সন্তানের জন্ম হয়। গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের দুইজনের মধ্যে দাম্পত্য কলহ বাঁধে। এক পর্যায়ে জুয়েলের সামনেই গায়ে পেট্রোল ঢেলে গ্যাসের চুলা থেকে শিরিন নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। সে সময় তার স্বামী জুয়েল পাশেই ছিলেন। গায়ে আগুন লাগার পরে শিরিন ছটফট করতে থাকলে জুয়েল পানিয়ে দিয়ে শরীরের আগুন নিভিয়ে দেয়। এ সময় চিৎকার চেচাঁমেচি হলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে শিরিনের দুই দেবর ও শাশুড়ি এগিয়ে এসে তাকে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় এই হাসপাতাল থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হলে বিকেলেই তাকে সেখানে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তির জন্য রেফার করেন। তাকে একটি গাড়িতে করে ঢাকায় নেয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করে পথিমধ্যে খুলনার ফুলতলা এলাকায় পৌছালে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ পরিদর্শক তাসমীম আলম জানিয়েছেন, গৃহবধূর মৃত্যু হলে তার স্বামী জুয়েল ও তার দুই ভাই এবং মা লাশ নিয়ে সরাসরি রাত ১২টার দিকে যশোর কোতোয়ালি থানায় আসে। এরপরে পুলিশ ওই লাশ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ওই রাতেই জুয়েলের মা আমেনা বেগম, ভাই রমজান ও সানা উল্লাহ গৃহবধূর পিতার বাড়ি কায়েমকোলায় চলে যান। ওই সময় পুলিশের কাছে সংবাদ আসে ওই তিনজনকে আটকে রাখা হয়েছে। পরে গভীর রাতে পুলিশ তাদের ওই বাড়ি থেকে নিয়ে আসে।

এ দিকে ওই মৃত্যু সম্পর্কে নিহতের পিতা খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। জুয়েলের সাথে বিয়ের পর থেকেই শিরিনকে নির্যাতন করতো। জুয়েলকে অনেক টাকা সোনার গহনা ও মালামাল দেয়া হয়। কিন্তু তারপরও নির্যাতন করা হয়। গত মঙ্গলবার দুপুরে জুয়েল তার মেয়ের শরীরের পেট্রোল ঢেলে শরীরের আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে পালিয়ে গেছে।

কিন্তু জুয়েলের মা আমেনা জানিয়েছেন, তিনি অন্য বাড়িতে থাকেন। শুনেছেন-ছেলে এবং বউমার মধ্যে গ-োগোলের পর শিরিন নিজের শরীরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ওই সময় জুয়েল পানি ঢেলে আগুন নিভিয়ে হাসতাপালে নিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আনছারুল হক জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি আশেপাশের লোকজনের কাছে ঘটনা শুনেছেন। তাতে মৃত্যুর ঘটনাটি রহস্যজনক। ঘটনা তদন্ত না করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

শেয়ার