যশোরে বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে চুরি ও ভাড়াটিয়াকে অপবাদ দেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ কুৎসা রটিয়ে ভাড়াটিয়াকে ঘর থেকে নামানোর চেষ্টা করছেন বাড়ি মালিকসহ কয়েকজন। এছাড়া কেয়ারটেকারের মাধ্যমে ভাড়াটিয়ার চাবি নিয়ে ঘরের মধ্যে থেকে দেড় ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩২ হাজার টাকাসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। এই ব্যাপারে ভুক্তভোগী যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন, যশোর শহরের পোস্ট অফিসপাড়ার মাসুম আহম্মেদ শ্যামল ও তার স্ত্রী সাবিনা বেগম, ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া মোতালেব হোসেন এবং কেয়ারটেকার মোতালেব হোসেন। মামলার বাদী দেবীলতা মন্ডল অভিযোগে বলেছেন, তার গ্রামের বাড়ি বাঘারপাড়া উপজেলার ছোট খুদরা গ্রামে। স্বামী বগুড়াতে চাকরি করেন। মাঝেমধ্যে যশোরে আসেন। আর দেবীলতা মন্ডল ঘোপ জেল রোড বেলতলায় একটি মার্কেটিংয়ের ব্যবসা করেন। তিনি যশোর শহরের পোস্ট অফিসপাড়ার মাসুম আহম্মেদ শ্যামলের বাড়ির সপ্তমতলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। একই বাড়িতে ষষ্ঠীতলায় ভাড়া থাকেন মোতালেব হোসেন আরেক ব্যবসায়ী। ওই বাড়ির কেয়ারটেকার মোতালেব হোসেনের মাধ্যমে বাদী দেবীলতার মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন ভাড়াটিয়া মোতালেব। গভীর রাতে ভাড়াটিয়া মোতালেব বাদী দেবীলতাকে ফোন করেন। বিভিন্ন ধরণের অশ্লীল কথা বলেন। দেবীলতা বিষয়টি বাড়ি মালিক সাবিনা বেগমকে অবহিত করেন। সাবিনা বেগম এরপরই দেবীলতাকে ঘর ছেলে অন্যত্র বাসা ভাড়া নেয়ার জন্য বলে দেন। কিন্তু এরপর থেকে ভাড়াটিয়া ও কেয়ারটেকার রাস্তাঘাটে দেখে দেবীলতাকে নানা ধরণের কটু কথা বলতে থাকেন। এরই মধ্যে বাসা ছেড়ে জন্য দেবীলতার ফ্ল্যাটের চাবি কেয়ারটেকার মোতালেব নিয়ে নেয়। কিন্তু দেবীলতা প্রতিদিন সকালে এবং বিকেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘোপ বেলতলায় যান। আর ওই সুযোগে কেয়ারটেকার মোতালেব তার বাসা থেকে দেড় ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩২ হাজার টাকা চুরি করে নিয়েছেন বলে দেবীলতা অভিযোগ করেন।

এই ব্যাপারে দেবীলতা ওই চারজনের নামে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা দেবীলতার উপর আরো ক্ষিপ্ত হয়। অভিযুক্তরা তাকে মারপিটসহ খুন জখমের হুমকি দিয়ে আসছে।
এই ব্যাপারে বাড়ি মালিক সাবিনা বেগম বলেছেন, ভাড়াটিয়া দেবীলতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়ে তাকে ঘর ছেলে অন্য কোথাও বাসা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। তবে তিনি আরো বলেছেন, ঘর ছেড়ে দেয়ার সময় চলতি মাসের ভাড়াসহ সার্ভিস চার্জের দুই হাজার টাকাও পরিশোধ করতে হবে।

এই অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই হারুন অর রশিদ বলেছেন, অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করা হয়েছে। বাদী প্রশাসনিক সহযোগিতা চাইলে দেয়া হবে।

শেয়ার