পাইকগাছায় উপ-পরিচালকের কৃষি কার্যক্রম পরিদর্শন

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি॥ পাইকগাছার বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ মহাদেব চন্দ্র সানা। সোমবার সকালে তিনি উপজেলার মাহমুদকাটী মাঠে অতন্ত্র জরিপ প্লটে সার্ভিলেন্স প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

পরে তিনি পৌরসভা ব্লকের অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের পুষ্টি বাগান ও কচু প্রদর্শনী, গদাইপুর ইউনিয়নের এনএটিপি-২ প্রকল্পের ভার্মিকম্পোস্ট হরিঢালী ইউনিয়নের মাহমুদকাটী নিরাপদ পান উৎপাদন সম্প্রসারণ কর্মসূচির পান বরজ, এনএটিপি-২ প্রকল্পের প্রদর্শনী, প্রনোদনা ও বীজ সহায়তার রোপা আমন ক্ষেত ও বিসিআইসি সারের দোকান ও গোডাউন পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার ধ্রুব জ্যোতি সরকার, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পিপিএম, কৃষক আব্দুল খালেক, আমজেদ গাজী, সামছুর জোয়াদ্দার, মোজাম সরদার, খোকন সরদার, আলেয়া বেগম, মোমেনা বেগম, বাকের গাজী, মোহর আলী, সুমি বেগম, মহাদেব মন্ডল, বিক্রম মন্ডল, রিপন ঘোষ, শাহজান গাজী, মিজানুর রহমান ও রানা জোয়াদ্দার। পরিদর্শন ও প্রশিক্ষণকালে কৃষিবিদ মহাদেব সানা নির্ধারিত মূল্যে চাষীদের নিকট সারসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিক্রির পরামর্শ দেন। এ সময় অতন্ত্র জরিপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্দিষ্ট জমিতে নিয়মিত কোন ফসলের ক্ষেতে বালাই জরিপ করা। বালাই এর অতন্ত্র জরিপ হলো কোন ফসলের বিরাজমান পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে নিয়মিত নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অপকারী ও উপকারী পোকা-মাকড়ের সংখ্যা, রোগ বালাই ও আগাছার পরিমাণ নিরুপণ করা। অতন্ত্র জরিপ সার্বিক বালাই ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও কার্যকরী পদক্ষেপ হলো বালাই পূর্বাভাস। এই জরিপের মাধ্যমে কয়েক বছরের প্রাপ্ত তথ্য যেমন, ফসলের পোকা-মাকড়, রোগ-বালাই ও পরিবেশগত উপাদান সমূহ বিশ্লেষন পূর্বক বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে কৃষকদের ভবিষ্যৎ বাণী বলা সম্ভব। ফসলের জমিতে অতন্ত্র জরিপের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য যেমন-ফসলের পোকা-মাকড়, রোগ-বালাই ও অন্যান্য পরিবেশগত উপাদান সমূহ বিশ্লেষণ পূর্বক ফসলের বালাইয়ের আক্রমণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার বার্তাকে বালাইয়ের আগাম সতর্কীকরণ বলে। অতন্ত্র জরিপ ৩ পদ্ধতিতে করা হয়- চাক্ষপ পদ্ধতি, হাত জাল পদ্ধতি ও পানির পাত্র পদ্ধতি। এর মাধ্যমে কারেন্ট পোকা ও বিএনবি রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

শেয়ার