আশাশুনির চেয়ারম্যান লিটনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই !

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা॥ আপন চাচা আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আলমকে জিম্মি করে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রেখে বাড়িও দখল করে নেন তিনি। ইউপি চেয়ারম্যান পদ এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পদও দখল করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রদল নেতা আলমগীর আলম লিটন।

ভোল পালটে রাতারাতি আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি হয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে টেনে এনেছেন তিন সহোদর, চাচা ও আত্মীয় স্বজনকে। জামায়াত এবং বিএনপি পরিবারের তিনজনকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ সদস্য সমর্থক বানিয়ে দিয়েছেন সনদপত্র। এই তিনজনই এখন চাকরি করছেন বিশেষ বাহিনীতে।

চেয়ারম্যান লিটন সম্পর্কে এমন নানা অভিযোগ পৌঁছেছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। কমিশন কর্মকর্তারা গত ২৩ সেপ্টেম্বর তার জবানবন্দি গ্রহণ করে তদন্ত করছে।

লিটন বিছট গ্রামে চাচা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আলমের বাড়ি দখল করে সেখানে বসবাস করছেন। এছাড়া সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুরে চার কাঠা জমির ওপর চারতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। খুলনার গল্লামারিতে, সাতক্ষীরার সুলতানপুর, জজ কোর্ট এলাকা ও রসুলপুরে পৃথক প্লট কিনেছেন তিনি। নিজ গ্রাম ও শ^শুর বাড়ির গ্রামেও জমি কিনে আরও একটি বাড়ি করেছেন লিটন। একটি সন্ত্রাসী বাহিনী পোষেন লিটন। প্রতিবারের নির্বাচনে এই বাহিনীকে ভোট কাটা, বুথ দখল, নিজ কার্যালয়ে বোমা ফাটিয়ে প্রতিপক্ষের নামে মামলা করে প্রার্থীদের জিম্মি করে রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে নয়টি মামলা ও কয়েকটি জিডি রয়েছে। এবারও নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন তিনি। গ্রামবাসী বলছেন একই সন্ত্রাসী কৌশলে ভোটের মাঠ দখলের পায়তারা করছেন লিটন।

নিজের দেওয়া সার্টিফিকেটে আনুলিয়া গ্রামের জামায়াত নেতা জহিরুদ্দিনের ছেলে এবং বিছট গ্রামের বিএনপি নেতা নাশকতা মামলার আসামি আবদুল মোড়লের দুই ছেলেকে আওয়ামী লীগের লোক দেখিয়ে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন তিনি। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটিতে নিজের আপন তিন ভাই, চাচা, চাচাতো ভাই, দুই ফুফাতো ভাই, আপন মামা ও মামাতো ভাইকে স্থান করে দিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যান লিটন এডিপি, এলজিএসপি, টিআর,কাবিখা, কাবিটা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামীয় বরাদ্দ খাস জমি বন্দোবস্ত, বিদ্যুৎ সংযোগ, রেশন কার্ড বিতরণ, ত্রাণ ও নগদ অর্থ বিতরণ, ভিজিডি, ভিজিএফ, কর্মসৃজনসহ নানা প্রকল্প থেকে টাকা আত্মসাত করেছেন। গ্রামবাসী বলেন লিটন বিএল কলেজে ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। আমরা তার হাতে নৌকা প্রতীক দেখতে চাই না।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আলমগীর আলম লিটন বলেন, এসব মিথ্যা কথা। আমি দুদকে সঠিক জবাব দিয়েছি। এরআগেও এমন সব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৬ বার তদন্ত হয়েছে কিন্তু কোনো প্রমাণ মেলেনি। আমি ছাত্রদল নয়, ছাত্র লীগ করেছি। আমার পুরো পরিবার স্বজন সবাই দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগার। প্রতিপক্ষের অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ৫টি হত্যা মামলা আছে। আমার নামে কোনো মামলা নেই। আমি কাউকে আওয়ামী লীগের সার্টিফিকেট দেইনি। দলে আমার কোনো আত্মীয় স্বজন আছে কিনা তা আমার জানা নেই। সামনে নির্বাচন আমি যাতে নৌকা প্রতীক না পাই তাই এসব অপ্রচারণা। আমার জনপ্রিয়তার প্রমাণ মিলবে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে। দলের জেলা নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা আমার সম্পর্কে জানেন।

শেয়ার