‘সুর্বণযাত্রা’ উপলক্ষে মঞ্চায়িত হলো গীতিনাট্য ‘যশোর রোড’

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ‘সুর্বণযাত্রা’ উপলক্ষে যশোর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মঞ্চায়িত হলো গীতিনাট্য ‘যশোর রোড’। রোববার সন্ধ্যায় গীতিনাট্যটির মঞ্চায়ন করে সাংস্কৃতি সংগঠন শেকড়’র শিল্পীরা। পাশাপাশি এদিন অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। সাংস্কৃতিক এই কর্মসূচির আয়োজক সুবর্ণযাত্রা ও নবচেতনা।

আয়োজক সূত্র জানায়, বিশ্বের প্রতিটি দেশে ‘যুদ্ধ নয় শান্তির বার্তা’-এমন ভাষ্য তুলে ধরবেন বাংলাদেশের একদল তরুণ। সূদুর নরওয়ে থেকে সড়ক পথে তাদের এই বিশ্ব যাত্রা। স্বাধীরতার স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে তাদের এই উদ্যোগ। আর দীর্ঘ প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ির দুঃসাহসিক উদ্যোগের নাম হলো ‘সুবর্ণযাত্রা। সূত্র মতে, যাত্রা পথে স্বাধীনতার বার্তা তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বাস যোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার আহবান জানানো হবে। আসছে ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় স্মৃতিসৌধে এই অভিযাত্রার সমাপ্তি ঘটবে। আর এটির উদ্দেশ্য বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরের সুবর্ণযাত্রা বিশ^বাসীকে জানানো। সুবর্ণযাত্রা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দিপ্তী ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় নবচেতনা মানবিক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন গীতি নাট্য মঞ্চায়ন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সুবর্ণযাত্রার প্রতি সংহতি জানাতে ছিলো এসব আয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক হুসাইন শওকত। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর সংবাদপত্র পরিষদ যশোরের সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলা, প্রেসক্লাব যশোরের সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান, দৈনিক স্পন্দনের নির্বাহী সম্পাদক মাহাবুব আলম লাবলু ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোরের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবচেতনা মানবিক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন সভাপতি মনিরুজ্জামান মুনির। সুবর্ণযাত্রার পক্ষে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সুবর্ণযাত্রা বাংলাদেশ প্রতিনিধি সঞ্জীব বিশ^াস সঞ্জয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শেকড় যশোরের সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা রাসু। যশোর রোড গীতি নাট্য জুড়ে ছিলো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাক আর্মির নির্বিচারে নিরস্ত্র বাঙালি হত্যা, ধর্ষণ আর অগ্নিসংযোগের দৃশ্য। এছাড়া তৎকালীন সেপ্টেম্বরের বৃষ্টি আর কাদাপানি উপেক্ষা করে প্রাণ রক্ষায় মানুষের যশোর রোড ধরে ছুটে চলার দৃশ্যও উঠে আসে এই গীতিনাট্যে। একাত্তরের যুদ্ধ ও মৃত্যু অসীম অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজ দেশ ছেড়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পাড়ি জমানোর সময়কার দুঃখ-দুদর্শায় যশোর রোড’র মূল উপজীব্য। বাঙালিদের ওপর ব্রিটিশদের নির্যাতন চিত্র দিয়ে গীতিনাট্যটি শুরু হয়। এরপর দেশ ভাগ, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও যুদ্ধকালীন সময়ে যশোর রোডে শরণার্থীদের যুদ্ধ-বিভীষিকা ও রক্তাক্ত জীবনচিত্রের ঘটনা প্রবাহের মঞ্চায়ন হয়। যশোর রোডে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের যে ঢল নামে তারই প্রতীকী উপস্থাপনায় শিহরিত হন দর্শক।

শেয়ার