মণিরামপুরে নববধূকে ধর্ষণের অভিযোগ ॥ পল্লী চিকিৎসকসহ দু’জনকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর॥ ইজিবাইক চালকের সহযোগিতায় এক নববধূকে ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এঘটনায় স্থানীয়রা অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন (৫০) ও তার সহযোগী দীন ইসলামকে (৪৪) ধরে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। বিষয়টি ছয় দিন পর জানাজানি হলে নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর ভাই রোববার মণিরামপুর থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন। যার মামলা নং-১০।

এদিকে ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণসহ ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূর-ই-আলম সিদ্দিকী।

পুলিশ ও ভিকটিমের পরিবার সূত্রে জানাযায়, মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা এলাকার দরিদ্র পরিবারের ওই মেয়েটির গত ৮ মাস পূর্বে বিয়ে হয় যশোর সদর উপজেলার পুলেরহাট-আমিননগর গ্রামে। গত ৪ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে পিতার বাড়ির উদ্দেশ্যে পুলেরহাট বাজার থেকে পরিচিত ইজিবাইক চালক দীন ইসলামের গাড়িতে তুলে দেয়া হয়। বিয়ে হলেও সন্তান হচ্ছে না জানার পর ওই গৃহবধূর ইচ্ছায় ইজিবাইক চালক তাকে পথিমধ্যে রোহিতা বাজারে পল্লীচিকিৎসক বিল্লাল হোসেনের কাছে নিয়ে যায়। ওইদিন ডাক্তারের দুইতলা বাড়িতে পরিবারের কেউ ছিলেন না। এই সুযোগে সেখানে নিয়ে সন্তান হওয়ার আশ্বাস দিয়ে একটি কক্ষে আটক রেখে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এই অনৈতিক কাজে ওই ইজিবাইক চালক সহযোগিতা করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলা সূত্রমতে, স্বামীর সংসার ও লোকলজ্জায় বিষয়টি গোপন রাখেন ওই গৃহবধূ। এক পর্যায়ে তার পরিবারসহ স্থানীয়রা বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জানার পর ৯ অক্টোবর শনিবার রাতে পল্লীচিকিৎসক বিল্লাল হোসেন ও ইজিবাইক চালক দীন ইসলামকে রোহিতা বাজার থেকে ধরে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ তাদের আহত অবস্থায় আটক করে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ধর্ষণের ঘটনায় আটক পল্লীচিকিৎসক বিল্লাল হোসেন এলাকার কোদলাপাড়া গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ পাটোয়ারীর পুত্র। ইজিবাজইক চালক দীন ইসলাম পাশ্ববর্তী বাগডোব গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার ছেলে।

শেয়ার