নিহত কৃষকদের পরিবার ক্ষতিপূরণ নয় ন্যায়বিচার চায়

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভারতের উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরিতে গাড়িচাপায় নিহত কৃষকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। এই পরিবারগুলো ক্ষতিপূরণ নিতে আগ্রহী নয় বরং তারা ন্যায়বিচার চেয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা।

নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বুধবার নিহত কৃষকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা দেখা করেন। কংগ্রেসের এই প্রতিনিধিদলে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নি, ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল ছাড়াও ছিলেন কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা এবং দীপেন্দর সিং হুডা।

লখিমপুর খেরিতে রাহুলও বলেছেন, “কৃষকদের পরিবারগুলো অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চায়। তারা বিচার চায়। অভিযুক্ত কে, তা সবাই জানে।” ওদিকে, প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, “আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, গাড়ি কে চালাচ্ছিল তাকে কি আপনারা চিনবেন? তারা বলেছিলেন হ্যাঁ।”

ভারতীয় পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, বুধবার রাতের দিকে রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কার গাড়ি সর্বপ্রথম লভপ্রীত সিংয়ের বাড়িতে দাঁড়ায়। মৃত কৃষকের পালিয়া তেহসিলের বাড়িতে ৩০ মিনিটের মতো ছিলেন তারা। পরিবারের সদস্যদের সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার লড়াইয়েও পাশে থাকার বার্তা দেন কংগ্রেস নেতারা।

সেখান থেকে নিঘাসান তেহসিলে সাংবাদিক রামন কাশ্যপের বাড়িতে যান। তিনিও গত রোববার লখিমপুর খিরিতে মারা যান। রামনের বাড়ি থেকে ধৌরাহা তেহসিলে নাচাতার সিংয়ের বাড়িতে যান রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা।

লখিমপুর খেরিতে গত রোববার নতুন তিন কৃষি সংস্কার আইন নিয়ে কৃষকদের বিক্ষোভ চলার সময় মন্ত্রীর গাড়িবহরের একটি গাড়ি প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ঢুকে গেলে ৪ কৃষকসহ মোট আটজন নিহত হন। কৃষকরা বলছেন, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র টেনির ছেলে আশিস মিশ্র।

তবে গাড়িচাপার ঘটনার সময় ছেলে আশিস মিশ্র ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন অজয় কুমার মিশ্র। যে গাড়িটি বিক্ষোভকারীদের চাপা দিয়েছে সেটি তাাদেরই মালিকানাধীন বলে স্বীকার করলেও ঘটনার সময় ছেলে আশিস গাড়িতে ছিলেন না বলেই জানিয়েছেন অজয়।

কিন্তু অজয় কুমার মিশ্র অস্বীকার করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে গাড়িচাপার ঘটনায় তার ছেলেরই জড়িত থাকার আলামত মিলছে। যদিও ভিডিও সত্যতা এখনও যাচাই করা যায়নি।

গাড়িচাপায় মানুষ হত্যার ঘটনাকে ঘিরে ভারতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। হত্যাকা-ে দোষীদের শাস্তির দাবিতে কৃষকরা ফুঁসে ওঠার পাশাপাশি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিরোধী সব রাজনৈতিক দলগুলোও এই হত্যার বিরোধিতা করছে।

লখিমপুর খেরিতে নিহত কৃষকদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে প্রিয়াঙ্কাকে আটক করা, ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো এবং পরে মুক্তি দিয়ে লখিমপুর যেতে দেওয়া নিয়ে নানা নাটকীয়তা হয়েছে। এরপরই প্রিয়াঙ্কা এবং রাহুল বুধবার কৃষক পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে সক্ষম হন।

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, লখিমপুর খেরি মামলায় ন্যায়বিচার ততক্ষণ সম্ভব নয়, যদি না অজয় মিশ্র রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। এমনকী প্রকাশ্যেই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর ছেলে আশিস মিশ্রকে গ্রেফতারের দাবি করেন কংগ্রেস নেত্রী।

তার কথায়, “এই (কৃষক) পরিবারগুলো ক্ষতিপূরণ চায় না, ন্যায়বিচার চায়। এটি সম্ভব নয় যতক্ষণ না তিনি (অজয় মিশ্র টেনি) রাজ্য মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়। যদি তারা এফআইআর ছাড়া আমাদের গ্রেপ্তার করতে পারে, তাহলে তারা (উত্তরপ্রদেশ পুলিশ) তাকে (আশীষ মিশ্র) গ্রেপ্তার করেছে না কেন।”

উত্তর প্রদেশ সরকার অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারকদের একটি এক সদস্যের কমিশন গঠন করেছে লখিমপুরের গাড়িচাপার ঘটনা তদন্ত করার জন্য। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা দাবি তোলেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক নয় বরং সুপ্রিম কোর্ট কিংবা হাই কোর্টে পদাসীন থাকা বিচারক দিয়েই লখিমপুরের সহিংসতার ঘটনা তদন্ত করে দেখা উচিত।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, লখিমপুর খেরির ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত এরই মধ্যে মামলা দায়ের করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার সেই মামলা শুনবে প্রধান বিচারপতি এন ভি রামান্না, বিচারপতি সূর্য কন্ত এবং বিচারপতি হিমা কোহলির ডিভিশন বেঞ্চ।

শেয়ার