পাপুয়া নিউ গিনিতে বন্ধ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার বন্দিশিবির

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ডিসেম্বরের শেষ থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের আর পাপুয়া নিউ গিনির বন্দিশিবিরে পাঠাবে না অস্ট্রেলিয়া।

বুধবার দুই দেশ একথা জানিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পাপুয়া নিউ গিনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিতর্কিত আটক কেন্দ্রের অবসান হতে চলেছে।

বিবিসি জানায়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুইটি দেশের মধ্যে পাপুয়া নিউ গিনি একটি, যাদেরকে আশ্রয়প্রার্থীদের আটক রাখার জন্য অর্থ দিয়ে থাকে ক্যানবেরা।

যেসব শরণার্থী অবৈধপথে নৌকায় করে অস্ট্রেলিয়ায় ঢুকতে চায় এবং অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় প্রার্থনা করে তাদেরকেই পাপুয়া নিউ গিনির মানাস দ্বীপ এবং দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ নাউরুতে আটক করে রাখা হয়ে আসছে সেই ২০১৩ সাল থেকে।

তবে বুধবার দুই দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, পাপুয়া নিউ গিনির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সরকারের শরণার্থী রাখা সংক্রান্ত চুক্তি এবছর ৩১ ডিসেম্বরেই শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং তা আর নবায়ন করা হবে না।

পাপুয়া নিউ গিনি শরণার্থী আটককেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়াকে চাপ দিয়ে আসছে। তবে পাপুয়া নিউ গিনিতে আটককেন্দ্র বন্ধ হলেও নাউরু দ্বীপে শরণার্থী আটক রাখার প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারেন অ্যানড্রুজ বুধবার বলেছেন, “সীমান্ত সুরক্ষার কঠোর নীতি বদলায়নি অস্ট্রেলিয়া। যে কেউ অবৈধ উপায়ে নৌকায় করে অস্ট্রেলিয়া পৌঁছার চেষ্টা করলে তাকে ফেরত পাঠানো হবে, নতুবা নাউরু দ্বীপে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।” আশ্রয় প্রার্থনা অবৈধ নয়- এ বিষয়টির সুস্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা না দিয়েই কথাগুলো বলেন তিনি।

পাপুয়া নিউ গিনির বন্দিশিবিরে বর্তমানে অবস্থান করছেন ১২০ জন আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থী। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পাপুয়া নিউ গিনির চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদেরকে এখন হয় সেখানেই থেকে যেতে হবে, নতুবা নাউরুর বন্দিশিবিরে যেতে হবে।

পাপুয়া নিউ গিনিতে আট বছর ধরে বন্দিশিবির চালিয়ে আসছে অস্ট্রেলিয়া। এই দীর্ঘ সময়ে সেখানকার বন্দিশিবিরে অনশন ধর্মঘট, দাঙ্গাসহ বড় ধরনের নানা সহিংস ঘটনা ঘটেছে, এমনকী আশ্রয়প্রার্থী একজন ইরানি প্রহরীদের হাতে খুনও হয়েছেন।

সহিংসতা, অপর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধার কারণে অথবা আত্মহত্যা করে এ পর্যন্ত পাপুয়া নিউ গিনি এবং নাউরু দ্বীপে অস্ট্রেলিয়ার বন্দিশিবিরে মোট ১৩ জন মারা গেছেন।

শেয়ার