বাংলাদেশকে বুঝতে শুরু করেছে তুরস্ক

সমাজের কথা ডেস্ক ॥ বাংলাদেশকে বুঝতে শুরু করেছে তুরস্ক । ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর যুদ্ধাপরাধীর বিচার প্রক্রিয়া জোরেশোরে শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকার। তখন এটাকে ভালো চোখে দেখেনি তুরস্ক। একপর্যায়ে বাংলাদেশ থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে তারা। জবাবে বাংলাদেশও নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে। কূটনৈতিক সম্পর্কের এমন টানাপড়েন চলতে থাকে বেশ কিছু দিন। পরে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক জোড়া লাগানোর চেষ্টা করে আঙ্কারা। রোহিঙ্গা ঢলের দুই সপ্তাহের মধ্যে তুরস্কের ফার্স্টলেডি এমিন এরদোয়ানসহ দেশটির আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ঢাকা সফর করেন। এরপর দিনে দিনে সম্পর্ক আরও ঝালাই হয়েছে। এখন ঢাকার মন বুঝেই সামনে এগুতে চাইছে আঙ্কারা। বাংলাদেশও তুরস্কের কাছ থেকে ‘ন্যাটো স্ট্যান্ডার্ড’ নিরাপত্তা পণ্য কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যা কয়েক বছর আগেও আলোচনায় ছিল না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে কিছু চড়াই-উৎরাই ছিল। কিন্তু এখন মোটামুটি আমাদের অবস্থান আঙ্কারার কাছে অনেকটা পরিষ্কার। আমাদের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো তারা বুঝতে শুরু করেছে।’

তুরস্কের উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং বাংলাদেশেরও আগ্রহের জায়গায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে মিল রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ একটি শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে এবং বিষয়টি তুরস্ক অনুভব করতে পারছে। আবার অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য এবং ওআইসিতে তুরস্ক উদীয়মান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি বলবো রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে আমরা দুই দেশ একে অপরের কাছে এসেছি।’ ‘বাংলাদেশ ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। ওআইসিতে বাংলাদেশের ভারসাম্যমূলক অবস্থান নিচ্ছে।’ বিষয়টিও হয়তো তুরস্ক পর্যবেক্ষণে নিয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এসব উপাদানের কারণে আমাদের আগ্রহ অবশ্যই আছে। তুরস্কের আগ্রহেও কমতি নেই।
কৌশলগত সম্পর্ক ঃ বর্তমানে বাংলাদেশ তুরস্ক থেকে বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা সামগ্রী কিনেছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘তাদের নিরাপত্তা পণ্য ন্যাটোর মানসম্পন্ন। দামও কিছুটা কম হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, এই ক্রয়ের সঙ্গে বিশেষ কোনও শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে না।’ উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কয়েকটি দেশ থেকে উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্র কেনা হলে সেটার সঙ্গে বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় (যেমন, যেকোনও সময় ওই অস্ত্র পরিদর্শন করতে দেওয়া)। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কৌশলগত হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুটো দেশ মুসলিম হওয়ায় অনেক সাধারণ উপাদান আছে এখানে।’

শেয়ার