যশোরে দু’সন্তান ফেলে পালিয়ে যাওয়া সাবেক স্ত্রী ও তার স্বামীকে হত্যাচেষ্টা, ইজিবাইক চালক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে সাবেক স্ত্রী ও তার স্বামীকে ইজিবাইক চাপা দিয়ে হত্যা চেষ্টা করেছেন শাহ আলম নামে এক ইজিবাইক চালক। পুলিশ ইজিবাইক চালক শাহ আলমকে আটক করেছে। আহত তানিয়া বেগম ও তার বর্তমান স্বামী কবির হোসেনকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে যশোর শহরের মুজিব সড়কের ক্যাফে প্রেসক্লাবের সামনে এই ঘটনা ঘটে। আটক শাহ আলম সদর উপজেলার মন্ডলগাতি গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে।

আটক শাহ আলম জানিয়েছেন, ২০০৭ সালে বেনাপোলের বারোপোতা গ্রামের জামসেদ আলীর মেয়ে তানিয়া খাতুনকে তিনি বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে হয়। ২০২০ সালের দিকে স্ত্রী তানিয়া সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামের শাহাজাহানের ছেলে কবির হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক করে। এক পর্যায়ে বছর খানেক আগে কবির হোসেনের সাথে তানিয়া পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। একই সময়ে শাহ আলমকে তানিয়া তালাক দিয়ে দেয়।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, সাবেক স্বামী শাহ আলম বিষয়টি ভালভাবে মেনে নেয়নি। যে কারণে তানিয়া এবং তার বর্তমান স্বামীর বিরুদ্ধে বড় ধরণের ক্ষতি করার জন্য পরিকল্পনা ও সুযোগ খুঁজতে থাকে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তানিয়া এবং তার বর্তমান স্বামী কবির হোসেন যশোর শহরের মুজিব সড়কের ক্যাফে প্রেসক্লাব থেকে খাওয়া-দাওয়া করে বের হয়ে যাওয়ার সময় পিছন দিক থেকে শাহ আলম ইজিবাইক দিয়ে মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এসময় তানিয়া ও কবির মোটরসাইকেল থেকে মাটিতে পড়ে যায়। এরপর শাহ আলম ইজিবাইক থেকে নেমে তানিয়াকে এলোপাতাড়ি মারপিট, ইট দিয়ে মাথায় আঘাত এবং ঘাড় ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করে। এসময় ওই ঘটনা দেখে আশপাশের লোকজন এসে শাহ আলমকে ধরে থানা পুলিশকে খবর দেয়। থানা পুলিশ শাহ আলমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

কোতোয়ালি থানার এসআই খান মাইদুল ইসলাম আহতদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শাহ আলমের স্বভাব-চরিত্র ভাল না থাকায় স্ত্রী তানিয়ার সাথে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তানিয়া আবার বিয়ে করেন কবির হোসেনকে। তানিয়া তার স্বামী কবিরকে নিয়ে ক্যাফে প্রেসক্লাব থেকে খাওয়া-দাওয়া করে বের হন। এসময় শাহ আলম হঠাৎ করে ইজিবাইক চালিয়ে তাদের চাপা দেয়। এরপরে আবার শাহ আলম তানিয়াকে বেধড়ক মারপিট করে এবং কবিরকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করতে থাকে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তানিয়া ও তার স্বামীকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। শাহ আলমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার সালাউদ্দিন স্বপন বলেছেন, তানিয়া শঙ্কামুক্ত। তবে কবিরের সিটিস্ক্যান না করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার অফিসার্স ইনচার্জ তাজুল ইসলাম বলেন, ইজিবাইক চালক শাহ আলমকে আটক করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার