মাদক সেবনে বাধা, ভাইসহ মারপিটের শিকার লোহাগড়ার সংস্কৃতি কর্মী সোহাগ

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি॥ মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় মারপিটের শিকার হয়েছেন নড়াইলের লোহাগড়ার জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা সংস্কৃতি কর্মী আবদুল্লাহ আল মামুন সোহাগ (৩৫) ও তার ভাই। এ ঘটনায় নড়াইল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভূক্তভোগী আবদুল্লাহ আল মামুন সোহাগ অভিযোগে জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে জয়পুর গ্রামে আমার বাড়ির সীমানার মধ্যে বসে প্রতিবেশী বখাটে আরমান শেখ ও তার সহযোগিরা মাদক (গাঁজা) সেবন করছিল। এসময় আমার ছোট ভাই আসিফ বখাটেদের সেখানে বসে মাদক সেবন করতে নিষেধ করলে বখাটেরা আসিফকে মারপিট করে। আমার বাবা ওই খান থেকে চলে যেতে বললে বখাটেরা আমার বাবাকেও গালিগালাজ করে। তখন বাবা ফোনে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ দু পক্ষকে থানায় আসতে বলে। এরপর থানায় যাবার পথে মাদক সেবী আরমান সহ তার সহযোগিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন সোহাগ এর উপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের কোপে মারাত্বক জখম হওয়ায় সোহাগ লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি হন।

আবদুল্লাহ আল মামুন সোহাগ আরো জানান, হামলার ঘটনায় জয়পুর গ্রামের গফরান শেখের ছেলে সুমন শেখ ও সোহেল শেখ, মৃত ছলেমান শেখের ছেলে গফরান শেখ ও সোহেল শেখের ছেলে আরমান শেখ এর নাম উল্লেখসহ ১০-১২ জনের নামে ১৯ সেপ্টেম্বর নড়াইল জজ কোর্টে হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেছি। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্ত করতে পিবিআই কে নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে অভিযোগ রয়েছে, মামলা দায়েরের পর থেকে ওই মাদক সেবীরা আবদুল্লাহ আল মামুন সোহাগ এর পরিবারকে নানা হুমকি দিচ্ছে। সূত্রমতে ওই মাদক সেবীরা গত ১৯ সেপ্টেম্বর মানিকগঞ্জ বাজারে একজন নারী সাংবাদিককে লাঞ্চিত করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এসব বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বেচাকেনা ও সেবনে সম্পৃক্ত থাকলেও প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। সংস্কৃতি কর্মী আবদুল্লাহ আল মামুন সোহাগ সম্প্রতি ঢাকা বিশ^ বিদ্যালয় থেকে পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগে পড়াশোনা শেষ করেছেন। এদিকে এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু হেনা মিলন বলেন, মাদক ব্যবসায়ি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার