ভান্ডারখোলা বাজারে দেড়শ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়ায় ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ড্রেনের ভেতরের পাইপ তুলে ফেলায় যশোরের কেশবপুরের কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মার্কেটের পাশে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে মার্কেট ভবনটি ক্ষতির মুখে পড়েছে। সেখানে বড় ধরনের ‘খানাখন্দ’ সৃষ্টি হওয়ায় মার্কেটটির ভিত দূর্বল হয়ে পড়ছে। এছাড়া অধিদপ্তরের আওতাধীন এই ভান্ডারখোলা বাজারটিতে বহু সংখ্যক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠলেও সেগুলো উচ্ছেদ হচ্ছে না।

জানা গেছে, সংস্কারের নাম করে স্থানীয় বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন মার্কেটটির ড্রেনের পাইপ তুলে ফেলে অন্যত্র ব্যবহার করেছেন। আর মার্কেটে গড়ে ওঠা প্রায় ১৫০টির মতন টোং ঘর উচ্ছেদও তার কারণে থমকে গেছে। ১ বছর আগে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে এসব অবৈধ টোং ঘর উচ্ছেদে পদক্ষেপ নেয় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়। কিন্তু সেসময় ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে এক সপ্তাহ সময় দিতে অনুরোধ জানান। টোং ঘর স্থাপনকারীদের পক্ষে তিনি ওই সময় চান। কিন্তু তার অনুরোধ রাখা হলেও তিনি প্রতিশ্রুতি রাখেননি। ৭ দিনে নয় গত ১ বছরেও সেসব স্থাপনা অপসারণ হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির মিটিংয়ে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে থানা বা জুডিশিয়াল আদালতে (বিচারিক আদালত) মামলা করারও প্রস্তাব রাখা হয় সভায়। বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমএম আরাফাত হোসেনের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভার বাজারটির সংস্কার, দোকান ভাড়া বৃদ্ধি, গুদাম ভাড়া বৃদ্ধি ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় বলা হয়, নিজ উদ্যোগে সংস্কারের নামে স্থানীয় চেয়ারম্যান বাজারে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি করেছেন। যার কারণে মার্কেট ভবন বড় ধরণের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সভায় বর্তমান প্রতি দোকান ভাড়া ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা, গুদাম ভাড়া ১২ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করারও প্রস্তাব রাখা হয়। এছাড়া ২০০৪-০৫ সালে গঠিত বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব রাখা হয় সভায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা প্রকৌশলের সাথে আলোচনা করে ব্যয় নির্ধারণ বাজারে প্রবেশ সড়ক, সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেটের শেডের টিন ও লোহার অ্যাংগেল সংস্কারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয় সভায়।

শেয়ার