পণ্যজটে বিপর্যয়ের মুখে বেনপোল স্থলবন্দর

 ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতিতে পরিস্থিতির আরো অবনতি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ পণ্যজটে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের বৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দর। ‘লোড-আনলোড’ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বন্দরটিতে পণ্যযানের এই জট চলছে। এর মধ্যে নতুন করে ডাকা ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতি পরিস্থিতির আরো অবনতি করেছে। এতে গত এক সপ্তাহে পণ্যবাহী যানের জট আরো বেড়েছে। ট্রাকের লাইন আরো দীর্ঘ হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার থেকে এই কর্মবিরতি শুরু করেছে বাংলাদেশ ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও প্রাইমমুভার পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশন। সংগঠনটি ১৫ দফা দাবিতে বন্দরে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে। ফলে এদিন আমদানি পণ্য পরিবহন ছিল বন্ধ। এতে পণ্য লোড করে গন্তব্যে যেতে না পারায় বন্দর এলাকায় আটকা পড়েছে বহু ট্রাক।
জানা গেছে, টার্মিনাল না থাকায় বেনাপোল বন্দরের যানজট কাটছে না। বন্দরটি দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১৫০ টন গার্মেন্টস ও অন্য পণ্য-সামগ্রী রপ্তানি হয়। আর এসব রপ্তানি পণ্যের ট্রাক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খালি হয়ে ফিরে আসে। গত ২ বছর ধরে এমন চলে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি বন্দরে প্রায় ৮শ’ ভারতীয় বেশকিছু আমদানি পণ্যবাহী ট্রাক স্থান সংকটের কারণে আনলোডের অপেক্ষায় রয়েছে। পেট্রাপোল অংশে ভারতীয় লোকাল ট্রাকের অভাবে রপ্তানি পণ্যবাহী এসব ট্রাক খালি হচ্ছে না।

এতে প্রায় ২ হাজার সয়াবিন নির্যাস ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক বর্ডার হতে শার্শা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে আছে। এর ফলে জরুরি ফার্মাসিউটিক্যালসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানিও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিনকার প্রায় ৪শ’ ট্রাক বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালসহ অন্যান্য পণ্যের আমদানি মাত্র ২শ’ ট্রাকে নেমে এসেছে। যেটি গার্মেন্টস ও ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের কাঁচামালের মারাত্মক সংকটের সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমন পরিস্থিতির উত্তরণে বেনাপোলের আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নোম্যান্সল্যান্ড হতে ১০ কিলোমিটার আগে ট্রাকগুলো অবস্থান করাতে হবে। বিকল্প হিসেবে অব্যবহৃত নতুন বাস টার্মিনাল বা অন্য কোন সুবিধাজনক স্থানে ব্যবস্থা করতে হবে এসব ট্রাক রাখার। প্রধান সড়ক হতে ট্রাক সরিয়ে রাখার ব্যবস্থা করাটা জরুরি। অন্যথায় বেনাপোল বন্দরে অচলাবস্থার নিরসন হবে না।

এদিকে, কর্মবিরতিতে আটকে পড়া ট্রাকচালক ও তাদের হেলপার (সহকারীরা) চরম বিপাকে পড়েছেন। পণ্য লোড-আনলোডে এমনিতেই চলছে দীর্ঘসূত্রিতা। তারপর এই কর্মবিরতিতে তারা ফিরতে পারছেন না। বন্দর শ্রমিকরা বলছেন, কাজ না থাকায় তাদের এখন অসহায় অবস্থা। দ্রুত ‘ধর্মঘট’ প্রত্যাহার চান তারা। তবে দাবি না মানা পর্যন্ত এ কর্মবিরতি চলবে বলে জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন নেতারা।

বাংলাদেশ ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও প্রাইমমুভার পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দীন গাজী বলেন, ১৫ দফা দাবিতে সারা দেশে তাদের ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন হচ্ছে। সরকার দাবি মানলে তারা কর্মবিরতি তুলে নিবেন। আর না মানলে কেন্দ্রের নির্দেশনায় কর্মবিরতি চলবে।

ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কমিটির চেয়ারম্যান মতিউর রহমান জানান, শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল, গার্মেন্টস ও খাদ্যদ্রব্য জাতীয় পণ্য ভারত থেকে আমদানি হয়ে থাকে। কিন্তু পরিবহন কর্মবিরতির কারণে ট্রাকচালকরা এসব পণ্য নিয়ে গন্তব্যে যেতে পারছেন না। এতে বন্দর এলাকায় প্রায় ৫ শতাধিক ট্রাক পণ্য নিয়ে আটকা পড়েছে। দ্রুত কর্মবিরতি প্রত্যাহার না হলে শিল্প কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হবে। বড় ধরনের লোকসান হবে ব্যবসায়ীদের।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচারক (প্রশাসন) আব্দুল জলিল জানান, কর্মবিরতিতে বেনাপোল বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও বন্দরের কার্যক্রম সচল রয়েছে। তবে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে।

শেয়ার